যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় কাজের অনুমতিপত্র হিসেবে পরিচিত এইচ১বি ভিসা কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আগামী ২০২৭ অর্থবছরের নিবন্ধন ও বাছাই প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রিধারী ও বেশি বেতনের চাকরির প্রস্তাব পাওয়া বিদেশি কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসনের ‘সবার আগে আমেরিকা’ নীতির অংশ হিসেবে এই পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন নাগরিকত্ব এবং অভিবাসন পরিষেবা। সংস্থাটি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ঘোষণায় জানায়, আগের প্রশাসনের সময় কম বেতনের বিদেশি শ্রমিকের ব্যাপক প্রবেশ কমিয়ে প্রকৃত দক্ষ ও উচ্চমানের পেশাজীবীদের যুক্ত করতে বর্তমান নীতিমালা কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরের জন্য বৈধ নিবন্ধনের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। বিদায়ী বছরে যেখানে ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৯৮১টি নিবন্ধন জমা পড়েছিল, সেখানে এবার তা নেমে এসেছে ২ লাখ ১১ হাজার ৬০০-এ।
কর্তৃপক্ষের দাবি, নিবন্ধন কমে যাওয়াকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। কারণ এর মাধ্যমে ভুয়া পৃষ্ঠপোষকতা কিংবা গণহারে আবেদন করে সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা কমেছে। এখন এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হচ্ছে প্রকৃত উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের আকৃষ্ট করা এবং একইসঙ্গে স্থানীয় কর্মীদের মজুরি ও চাকরির সুযোগ সুরক্ষিত রাখা।
নতুন নীতিমালার সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে নির্বাচিত আবেদনকারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতায়। এবার দৈবচয়নে নির্বাচিতদের মধ্যে ৭১ দশমিক ৫ শতাংশেরই যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর বা তার চেয়েও উচ্চতর ডিগ্রি রয়েছে। গত বছর এই হার ছিল ৫৭ শতাংশ।
অন্যদিকে কম বেতনের কর্মীদের সুযোগও অনেকটাই সীমিত হয়েছে। নির্বাচিত আবেদনকারীদের মধ্যে মাত্র ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ সর্বনিম্ন বেতনকাঠামোর আওতায় থাকা কর্মী।
এইচ১বি ভিসা এমন একটি কর্মসূচি, যার মাধ্যমে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো প্রযুক্তি, প্রকৌশল, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও তথ্যবিজ্ঞানের মতো বিশেষায়িত খাতে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিতে পারে। আগে বাছাই প্রক্রিয়া পুরোপুরি দৈবচয়নভিত্তিক ছিল। ফলে উচ্চ বেতনের প্রযুক্তি প্রকৌশলী ও কম বেতনের সাধারণ কর্মীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় সমান থাকত।
তবে বর্তমান প্রশাসন বেতনভিত্তিক অগ্রাধিকার পদ্ধতি চালু করায় বেশি বেতনের চাকরির প্রস্তাব পাওয়া কর্মীদের নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে কয়েকগুণ। একইসঙ্গে নিবন্ধন ফি বৃদ্ধি ও নতুন কড়াকড়ির কারণে অনেক তথ্যপ্রযুক্তি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কম বেতনের কর্মী নিতে গণহারে আবেদন করা থেকে সরে এসেছে।
প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী ও শিক্ষার্থী এইচ১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে পেশাগত ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করেন। নতুন নিয়মে তাদের জন্য ভিন্নধর্মী বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।
যেসব বাংলাদেশি শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর বা গবেষণাধর্মী উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে বড় প্রতিষ্ঠানে উচ্চ বেতনের চাকরিতে যোগ দিচ্ছেন, তাদের জন্য সুযোগ বেড়েছে। কারণ আগের তুলনায় এই ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা এখন বেশি।
অন্যদিকে সদ্য স্নাতক হয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের বা কম বেতনের চাকরিতে প্রবেশ করা কর্মী কিংবা তৃতীয় পক্ষের পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ খুঁজছেন এমন পেশাজীবীদের জন্য পথটি আগের চেয়ে কঠিন হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে, মেধা, উচ্চশিক্ষা ও বেতনভিত্তিক দক্ষতার মূল্যায়ন নিশ্চিত করতেই মার্কিন প্রশাসন এই কঠোর নীতিতে এগোচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হবে।


