চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগে ইসলামফোবিয়া কাটানোর চেষ্টায় কাতার

Nagod
Bkash July

ফুটবল বিশ্বকাপ উৎসবকে কেন্দ্র করে সফরকারী হাজার হাজার পশ্চিমা নাগরিকের ইসলাম সম্পর্কিত মনোভাব পরিবর্তনের চেষ্টা করছে গর্বিত মুসলিম দেশ কাতার।

Reneta June

ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে পশ্চিমাদের মনোভাব পরিবর্তন করতে না পারলেও অন্তত আলোচনা শুরু করতে চায় কাতার।

উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে বিশ্বকাপ ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম আয়োজক দেশ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে কাতার। প্রাকৃতিক সম্পদ গ্যাস সমৃদ্ধ দেশ কাতার নির্মিত দৃষ্টিনন্দন মসজিদগুলো সহজেই উৎসুক দর্শনার্থীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

দোহার সাংস্কৃতিক বিভাগ কাতারা’র মসজিদে নামাজের আজান শুনেছেন কানাডার দম্পতি ডরিনেল এবং ক্লারা পোপা । মসজিদটি ওসমানী আমলের মসজিদের আদলে তৈরি হয়েছে। এটি দোহার নীল মসজিদ নামে পরিচিত। মসজিদের দেয়ালে নীল এবং বেগুনি রং এর টাইলস দিয়ে নির্মিত। কানাডার ওই দম্পতিকে মসজিদটি ঘুরে দেখান এবং এর নির্মাণশৈলী বর্ণনা করেন কাতারের এক ভ্রমণ গাইড।

মসজিদ ঘুরে দেখে ৫৪ বছর বয়সী হিসাবরক্ষক ডরিনেল পোপা বলেন, এই প্রথম আমি ইসলামের কোন নিদর্শন দেখলাম। ইসলাম সম্পর্কে আমাদের মধ্যে কিছু কুসংস্কার আছে। এই ধর্ম সম্পর্কে আমার জানাশোনা নেই বলেই কুসংস্কার তৈরি হয়েছে।

ডরিনেল পোপার ৫২ বছর বয়সী স্ত্রী পেশায় ডাক্তার। তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে কিছু ধারণা আছে আগে থেকে তবে এবারের সফরের পর যেগুলো পাল্টাবে হয়তো।

‘ব্লু মস্ক’ বা নীল মসজিদটি দেখাশোনা করছে ‘দ্যা কাতার গেস্ট সেন্টার’। এই সেন্টারটি বিশ্বকাপ উৎসব উপভোগ করার জন্য সারা বিশ্ব থেকে শতাধিক ইমামকে কাতারে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

কফি আর খেজুর খেতে খেতে ইসলামের আলাপ
ব্লু মস্ক এর বাইরে বিভিন্ন ভাষায় লেখা ইসলাম সম্পর্কিত পুস্তিকা রাখা আছে। যেখানে মহানবী (সাঃ) এর বিভিন্ন হাদিস লেখা আছে। পুস্তিকার সঙ্গে দর্শনার্থীদের বিনামূল্যে কফি এবং খেজুর দিয়ে আপ্যায়ন করা হচ্ছে।

সিরিয়ান স্বেচ্ছাসেবী জিয়াদ ফাতেহ বলেছেন, বিশ্বকাপ হচ্ছে লাখ লাখ মানুষের কাছে ইসলামের বাণী প্রচার করার একটা বড় সুযোগ। তাছাড়া ইসলাম সম্পর্কে পশ্চিমা মানুষের মনে যেসব ভুল ধারণ আছে সেগুলো পরিবর্তনেরও সুযোগ। যে ভুল ধারণা দিয়ে পশ্চিমারা ইসলাম আর উগ্রপন্থার মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করে।

তিনি আরও বলেন, আমরা দর্শনার্থীদের মধ্যে ইসলামের নীতি-নৈতিকতার বিষয়গুলো বেশী করে তুলে ধরছি। পারিবারিক বন্ধন, মুসলিম এবং অমুসলিম প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্ব ইত্যাদি বিষয়গুলো বেশী গুরুত্ব দিয়ে বলছি।

মসজিদের কাছে স্বেচ্ছাসেবকরা টেবিল নিয়ে বসে আছেন। তারা দর্শনার্থীদের বলছেন, কাতার সম্পর্কে জানতে আমাকে প্রশ্ন করুন। যারা একটু সময় নিয়ে দাঁড়াচ্ছেন তাদেরকে আরবের কফি খেতে দেয়া হচ্ছে।

ফিলিস্তিনের এক স্বেচ্ছাসেবী সোমায়া বলেন, দর্শনার্থীদের বেশীরভাগ প্রশ্ন পর্দা, বহুবিবাহ এবং ইসলাম ধর্মের নারীরা বঞ্চিত কি না সেসব নিয়ে।

দর্শনার্থীদের জন্য রাস্তায় চলতে চলতে পাঁচ মিনিটের ভিডিও দেখার ব্যবস্থাও রাখা আছে। যে ভিডিওতে ইতিহাসের ভিত্তিতে যুগে যুগে ইসলাম ধর্মকে তুলে ধরা হয়েছে। কাতারজুড়ে চলছে এই প্রচারণা।

শান্তির ধর্ম ইসলাম
কাতাদের পার্ল অঞ্চলে প্রবাসীরা থাকেন। এখানকার বিলাসী সব ক্যাফে, রোস্তোঁরার দেয়াল, মুর‌্যাল মহানবীর (সাঃ) বাণী দিয়ে অলঙ্কৃত করা হয়েছে। যেসব বাণীতে নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

দামী শপিং মলগুলোতেও ইসলামের মর্মবাণী প্রচার করা হচ্ছে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে। এরকমই একটি শপিং মল সোউক ওয়াকিফ মার্কেট। এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী ভীড় জমান। এখানে বিনামূল্যে বই-পুস্তক রাখা আছে। যেখানে দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য লেখা আছে ‘তুমি যদি শান্তি চাও তাহলে ইসলামেই শান্তি খুঁজে পাবে’।

ওই শপিং মলের কাছে আছে শেখ আবদুল্লাহ বিন জাইদ ইসলামিক কালচারাল সেন্টার। এটি দিনে ১২ ঘণ্টা খোলা রাখা হচ্ছে দর্শনার্থীদের জন্য।

কাতারের কিছু বুদ্ধিজীবী ফুটবল সমর্থকদের ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করার পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সুলতান বিন ইব্রাহিম আল হাশেমি কাতার ইউনিভারসিটির শরিয়া আইন বিভাগের অধ্যাপক। তিনি ভয়েস অব ইসলাম রেডিও স্টেশনেরও প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেছেন, বিশ্বকাপের সময়টাকে ইসলামফোবিয়া কাটিয়ে ওঠার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। অমুসলিমদের ইসলামে দীক্ষিত করারও চেষ্টা করতে হবে।

অধ্যাপক হাশেমি এএফপি কে বলেছেন, কোন  বিদেশীর সঙ্গে কথা হলে আমি তাকে ইসলাম গ্রহণ করার আমন্ত্রণ জানাবো।

সামাজিক মাধ্যমগুলোতে দাবি করা হচ্ছে শত শত দর্শনার্থী ইসলামে দীক্ষা নিয়েছেন। তবে এএফপি’র ফ্যাক্ট চেকিং সার্ভিস বলছে এসব দাবি ভুয়া।

কাতারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী বলেছেন,  বেশী বেশী মানুষকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করা আমাদের মূল লক্ষ্য না। আমরা চাই ইসলাম সম্পর্কে পশ্চিমাদের মধ্যে যে ধারণ তৈরী হয়ে আছে সেখানে পরিবর্তন আসুক।

ফুটবল প্রেমীরা বলেছেন, ইসলাম সম্পর্কে বেশী বেশী জানার বড় সুযোগ এটি।

BSH
Bellow Post-Green View