ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধের আজ ২৪ তম দিন। এক দিকে যেখানে গাজায় মৃত্যুর নদী বয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে যুদ্ধে জয় তাদেরই হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছে দুই দেশের এই যুদ্ধে লাভবান হচ্ছে তৃতীয় একটি দেশ। তৃতীয় দেশটি কাতার।
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন থেকে প্রায় ১৭০০ কিলোমিটার দূরে কাতার। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধে কাতার দ্বিপাক্ষিক খেলা খেলছে। কাতার প্রকাশ্যে হামাসকে সমর্থন করে। আবার সময় বিশেষে তাদের সঙ্গে সমঝোতাও করে এবং করায়।

২০০৭ সাল থেকে গাজা স্ট্রিপ হামাসের হাতে। তারাই ওই এলাকার প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ হামাসকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসাবে ঘোষণা করলেও, অনেকে বলেন হামাস কোনও সন্ত্রাসবাদী সংগঠন নয়। বরং তারা একটি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের গোষ্ঠী, যারা প্যালেস্তাইনের জন্য লড়াই করছে।

২০১২ সাল পর্যন্ত হামাসের নেতারা ছিলেন সিরিয়াতে। কাতারেও তাদের অনেক নেতা থাকেন। ২০১৯ সালে হামাসের এক শীর্ষ নেতা গাজা থেকে সাময়িক ভাবে বিদেশে ঘুরতে যাচ্ছেন বলে বেরিয়েছিলেন। তার পর থেকে কাতারের দোহায় বসে তিনি হামাসের বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করেন।
কাতার শুধু গাজায় অর্থসাহায্যই করে না। হামাসকে তাদের বিভিন্ন অভিযানে সাহায্য করে। হামাসের নেতারা ভিন্দেশ থেকে গাজ়ায় অভিযান পরিচালনা করেন। তবে শুধু হামাসের সাহায্যকারী নয়, কাতারের ভূমিকা আরও বেশি। পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সঙ্কটে কাতার বরাবর সমঝোতাকারীর ভূমিকা পালন করে এসেছে। পশ্চিমি দেশগুলোর সঙ্গে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলোর মধ্যস্থতার কাজ করে কাতার।

কাতারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি সেনাঘাঁটি রয়েছে যার নাম আল উডেড বিমানঘাঁটি। ২০১৪ সালে আমেরিকান এক সার্জেন্টকে তালিবান নিজেদের হেফাজতে নিয়েছিল। সেই সময় মধ্যস্থতার কাজ করেছিল এই কাতার।

কাতার তালিবানের সাথে আলোচনার মাধ্যমে মার্কিন এক সার্জেন্টকে মুক্ত করেছিল। এক দিকে সমঝোতার মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্ররের সাথে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করেছে কাতার।

কাতার যে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলোকে গোপনে সাহায্য করে, তাদের অর্থ এবং অস্ত্রের জোগান দেয়, সে বিষয়ে সৌদি আরব কিংবা সংযুক্ত আরব আমির শাহি একাধিক বার অভিযোগ করেছে। কিন্তু সব জেনেও কাতারের বিরুদ্ধে কেউ কোনও পদক্ষেপ করে না।
কাতার সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে তাদের সঙ্গে সমঝোতার রাস্তা প্রস্তুত রাখে। এ ভাবে তারা ধীরে ধীরে গোটা বিশ্বের কাছে ত্রাতা হিসাবে নিজেদের তুলে ধরতে পেরেছে।

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধে বর্তমান বিশ্ববাসীর নজর কাতারের ওপর। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আরব দেশগুলো জানে সমঝোতার সময় এলে একমাত্র কাতারই পারবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে।








