এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের পর থেকে দুই সপ্তাহ ধরে কর্মবিরতিতে আছেন রাজ্যের জুনিয়র চিকিৎসকরা। জরুরি বিভাগ খোলা থাকলেও অন্য পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের অনুরোধে অন্যান্য রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা কাজে ফিরেছেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের জুনিয়র চিকিৎসকরা এখনই কাজে যোগ দিতে রাজি নন। এতে ভোগান্তি বাড়ছে রোগীদের।
ডয়েচ ভেলে জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের সরকারি হাসপাতালের ওপর অধিকাংশ নিম্নবিত্ত মানুষ নির্ভর করেন। সেই পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন তারা।
দত্তপুকুর থেকে আরজি করে এসেছিলেন বিকাশ ঘোষ। সঙ্গে বৃদ্ধ বাবা। বলেন, এর আগের দিন এসে ফিরে গেছি। আজ অপেক্ষা করছি। দেখি বাবাকে ডাক্তার দেখাতে পারি কি না। এখানকার ডাক্তার ওষুধ দিয়েছিলেন। একমাস পরে আসতে বলেছিলেন।
অস্থিরোগ বিভাগের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন বেলগাছিয়ার শ্রাবণী হালদার। তিনিও বাবাকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। বলেন, সাত দিন ধরে বাবা ব্যথায় খুব কষ্ট পাচ্ছেন। শুধু পেইনকিলার খাইয়ে আর কতদিন চালাব। আজ ডাক্তার দেখাতে এসেছি। দেখি কী হয়।
আরজি কর সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাধারণভাবে বহির্বিভাগ ও আপৎকালীন পরিষেবা বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার রোগী আসেন এই হাসপাতালে। এখন সেই সংখ্যা অনেকটাই কমছে। শুক্রবার বহির্বিভাগে এক হাজার ১০০-র বেশি রোগী দেখা হয়েছে। জুনিয়র চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করলেও সিনিয়ররা তাদের কাজ করেছেন।
কলকাতার অন্যান্য সরকারি হাসপাতালের চিত্র খুব একটা আলাদা নয়। নীলরতন সরকার মেডিকেল, এসএসকেএম, মেডিকেল কলেজ, শম্ভুনাথ পন্ডিত হাসপাতালেও কমবেশি একই অভিজ্ঞতা হচ্ছে রোগী ও তার পরিবারের। এই হাসপাতালগুলোতে পরিষেবা সুষ্ঠুভাবে চালানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে থাকেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। এদের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। তবে তারা কর্মবিরতিতে থাকায় রোগীরা দুর্ভোগে পড়েছেন।
সুপ্রিম কোর্টের অনুরোধ মেনে এই রাজ্যের চিকিৎসকরা এখনো কাজে যোগ দিতে প্রস্তুত নন। তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনে অপরাধীদের বিচার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তার দাবি তুলে তারা কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
দেশজুড়ে জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলনকে সংগঠিত করার জন্য তৈরি হয়েছে অল ইন্ডিয়া জয়েন্ট অ্যাকশন ফোরাম। এর সর্বভারতীয় সমন্বয়ক ডা. নীলাঞ্জন দত্ত বলেন, এটা শুধু চিকিৎসক নয়, আপামর জনগণের নিরাপত্তার প্রশ্ন। তাই তারাও পথে নেমেছেন। এই দাবি পূরণের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলন চাই।
রাজ্য সরকার জুনিয়র চিকিৎসকদের বিভিন্ন দাবি পূরণ করেছে। সর্বোচ্চ আদালত আশ্বাস দিয়েছে, আন্দোলনে যুক্ত থাকার জন্য কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। এটাকে যথেষ্ট বলে মনে করছেন না আন্দোলনরত চিকিৎসকরা।
তারা বলছেন, চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধারের পর এতদিন কেটে গেলেও কেন আর কেউ গ্রেপ্তার হল না? আরজি কর ছাড়া অন্য হাসপাতালে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা এখনো কেন নেওয়া হয়নি? নীলাঞ্জন দত্ত বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক বা পরিকাঠামোর যে ঘাটতি রয়েছে, সেটা নিয়ে কোনো সরকার ভাবে না। জনগণের স্বাস্থ্যের দাবিতেও এই আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। আন্দোলন বন্ধ করার প্রশ্নই উঠে না।
তাদের এসব ন্যায়সঙ্গত দাবিতে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা। সিবিআই তদন্ত, অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও বিচার, সবকিছুর পরিণতি খুব দ্রুত হবে বলে মনে করছেন না তারা। তাই রোগীদের ভোগান্তিও দ্রুত শেষ হবে এমনটা ভাবতে পারছেন না তারা ।
সূত্র: ডয়চে ভেলে








