শিক্ষার্থীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিযুক্ত রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল মতিনের বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কার ও প্রশাসনের বাদী হয়ে মামলার দাবিতে বিভাগের শিক্ষার্থীরা পঞ্চম দিনেও আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে।
বুধবার ৭ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধু চত্বরে আন্দোলন শুরু করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পরে দুপুর ২টার কাছাকাছি সময়ে শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিতে দিতে একটি মিছিল নিয়ে শহীদ মিনার হয়ে কাটাপাহাড় দিয়ে জিরো পয়েন্টে যায়।
আন্দোলন ও মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘জেগেছে রে জেগেছে ছাত্রসমাজ জেগেছে’, ‘আমার বোনের সম্মান হানি মানি না মানব না’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে অধ্যাপক মাহবুবুল মতিনের মেসেঞ্জার ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারী শিক্ষার্থীদের অপ্রাসঙ্গিক ও অসংযত মন্তব্য সম্বলিত প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যায়।
রসায়ন বিভাগের ২০১৮-২০১৯ সেশনের শিক্ষার্থী তাকি সুলতানা চৌধুরী বলেন, এ ধরণের ঘটনার দ্রুত ব্যবস্থা কেন নেওয়া হচ্ছে না প্রশাসনের পক্ষ থেকে? আমরা ততক্ষণ আন্দোলন বন্ধ করব না, যতক্ষণ পর্যন্ত না প্রশাসন উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে পারবে।
২০১৯-২০২০ সেশনের শিক্ষার্থী ফারজানা আহাম্মেদ বলেন, আমরা প্রশাসনের কাছে দু’টা দাবি আদায় করতে চাই। একটি হলো ধর্ষক মাহবুবুল মতিনকে স্থায়ী বহিষ্কার করতে হবে এবং প্রশাসনকে বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করতে হবে।
২০১৮-২০১৯ সেশনের শিক্ষার্থী আল শাহরিয়ার বলেন, প্রশাসন আমাদের দাবিগুলো শোনার পর কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি এখনও। এই দাবিগুলো প্রশাসন মেনে না নিলে আন্দোলন আরও বেগবান হবে।
প্রক্টর নূরুল আজিম শিকদার বলেন, ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক সেটা আমরাও চাই। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ জমা দেওয়ার সাথে সাথে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আসতে পাঁচ সাত দিন সময় লাগতে পারে। রিপোর্ট অনুযায়ী আমরা সিদ্ধান্ত নেব।
উপাচার্য ড. শিরীণ আখতার বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে সেটার সত্যতা প্রমাণ হওয়া পর্যন্ত শাস্তি দেওয়া যায় না। অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট হাতে আসলে সেই অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
এর আগে গত বুধবার ৩১ জানুয়ারি উপাচার্য ড. শিরীণ আখতারকে তার কার্যালয়ে রসায়ন বিভাগের এক শিক্ষার্থী একই বিভাগের অধ্যাপক মাহবুবুল মতিনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণচেষ্টার লিখিত অভিযোগ দেন।
এরপর দিন বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই ঘটনার বিচারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। এখনও প্রশাসনের তদন্ত শেষ না হওয়ায় বিচার হচ্ছে না। অথচ সেই শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আরও বেগবান হয়ে পড়েছে।
অভিযুক্ত অধ্যাপক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অভিযোগকারী শিক্ষার্থী মানসিক রোগাক্রান্ত, হতাশায় ভুগছে। মিথ্যা অভিযোগে আমাকে কেন ফাঁসানো হচ্ছে আমি জানি না।







