ডিজিটাল ক্ষতি থেকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষায় ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য রাত্রিকালীন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কারফিউ চালুর প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের জন্য মধ্যরাত থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টার ডিফল্ট লকআউট চালু করা হবে। তবে ব্যবহারকারীরা চাইলে এই সীমাবদ্ধতা বন্ধ করতে পারবেন।

এ ছাড়া ভালো ঘুম এবং মনোযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে অটো-প্লে ভিডিও ও ইনফিনিট স্ক্রলিংয়ের মতো আসক্তিমূলক ফিচারও ডিফল্টভাবে নিষ্ক্রিয় রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
লেবার সরকারের এ উদ্যোগ আসে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণার পর। গত জুনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ২০২৭ সাল থেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ কার্যকরের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
সরকারের অনলাইন নিরাপত্তাবিষয়ক সচিব কনিষ্কা নারায়ণ বলেছেন, সরকার সরাসরি নিষেধাজ্ঞার পথ না নিয়ে কিশোর-কিশোরীদের দায়িত্বশীল ব্যবহারে উৎসাহিত করতে চায়। স্কাই নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমরা আমাদের কিশোর-কিশোরীদের ক্ষমতায়ন করতে চাই। প্রমাণ বলছে, বেশিরভাগ তরুণই সীমাবদ্ধতামূলক ডিফল্ট সেটিংস চালু রাখে।
তার দাবি, আগের কিছু স্বেচ্ছাভিত্তিক পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে ৯০ শতাংশের বেশি কিশোর-কিশোরী নির্ধারিত নিরাপত্তা সেটিংস পরিবর্তন করেনি। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির শিক্ষা বিষয়ক মুখপাত্র লরা ট্রট বলেন, সহজেই বন্ধ করা যায় এমন কারফিউ কার্যকর হবে না। তিনি বলেন, সরকার যদি মনে করে এই বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থাকা উচিত নয়, তাহলে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। সহজে এড়িয়ে যাওয়া যায় এমন বিধিনিষেধের তেমন কোনো মূল্য নেই।
শিশু অধিকারবিষয়ক সংগঠন ন্যাশনাল সোসাইটি ফর দ্য প্রিভেনশন অব ক্রুয়েলটি টু চিলড্রেন (এনএসপিসিসি) উদ্যোগটিকে স্বাগত জানালেও এটিকে যথেষ্ট মনে করছে না। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ক্রিস শেরউড বলেন, কেবল কারফিউ দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের পেছনে থাকা আসক্তি সৃষ্টিকারী অ্যালগরিদমগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিশ্বজুড়ে কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা বাড়ছে। গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিশ্বের প্রথম জাতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা চালু করে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসে।
যুক্তরাজ্যের প্রস্তাবিত কারফিউ এখনো আইনে পরিণত হয়নি। আইন হিসেবে অনুমোদন পেলে এর বাস্তবায়নের দায়িত্ব ভবিষ্যৎ সরকারের ওপর বর্তাতে পারে।







