দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ব্যবস্থার অবকাঠামো শক্তিশালী করতে থানা, পুলিশ ফাঁড়ি, তদন্ত কেন্দ্র, ক্যাম্প এবং বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটের স্থাপনা নির্মাণে ৭০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের আটটি বিভাগের ৪৮টি জেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো-বর্ধিত পুলিশ জনবলের জন্য পর্যাপ্ত অফিস ও আবাসিক সুবিধা নিশ্চিত করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ফাঁড়ি বা তদন্ত কেন্দ্র, ক্যাম্প, নৌ-পুলিশ কেন্দ্র, রেলওয়ে পুলিশ থানা ও ফাঁড়ি, ট্যুরিস্ট পুলিশ কেন্দ্র এবং হাইওয়ে পুলিশের থানা বা ফাঁড়ি নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ পুলিশ বাস্তবায়ন করবে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
কর্মকর্তারা জানান, অনেক পুলিশ ক্যাম্প ও ফাঁড়ি বর্তমানে অস্থায়ী স্থাপনা, ভাড়াবাড়ি বা জরাজীর্ণ ভবনে পরিচালিত হচ্ছে, যা কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। নতুন অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ও জনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়বে।
প্রকল্পের মাধ্যমে হাইওয়ে পুলিশের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়িয়ে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ, ছিনতাই-ডাকাতি ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধ দমন এবং মহাসড়কে অযোগ্য ও অননুমোদিত যানবাহন তদারকি জোরদার করা হবে। নৌপথে যাত্রী ও পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জলদস্যুতা ও ডাকাতি প্রতিরোধ, অতিরিক্ত বোঝাই নিয়ন্ত্রণ এবং অনুপযুক্ত নৌযানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নৌ-পুলিশের অবকাঠামো উন্নয়ন অপরিহার্য বলে মনে করছে পরিকল্পনা কমিশন।
এছাড়া জরাজীর্ণ রেলওয়ে পুলিশ থানা ও ফাঁড়ি সংস্কার এবং নতুন স্থাপনা নির্মাণ, পর্যটন কার্যক্রম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকায় আধুনিক ট্যুরিস্ট পুলিশ কেন্দ্র নির্মাণও প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।








