যুক্তরাজ্যে ফিরছেন ডিউক ও ডাচেস অব সাসেক্স প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল। চলতি মাসের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে যুক্তরাজ্যে ফিরে লন্ডনের বাইরে একটি ব্যক্তিগত বাসভবনে উঠতে যাচ্ছেন তারা।
বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট তথ্যটি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ।
হ্যারি ও মেগানের দুই সন্তান প্রিন্স আর্চি ও প্রিন্সেস লিলিবেট সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যের একটি স্কুলে ভর্তি হবে। আর্চির বয়স এখন সাত বছর এবং লিলিবেটের পাঁচ বছর।
রাজপরিবারের দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে হ্যারি বা মেগানের আবারও দায়িত্বে ফেরার কোনো পরিকল্পনা নেই। তারা ব্যক্তি হিসেবেই থাকবেন এবং তাদের আনুষ্ঠানিক অবস্থানেও কোনো পরিবর্তন আসবে না।
জানা গেছে, গত রোববার রাজা তৃতীয় চার্লসকে হ্যারি ও মেগানের যুক্তরাজ্যে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। তবে এর আগে গত জুলাইয়ে হ্যারি, মেগান ও তাদের সন্তানরা গ্লস্টারশায়ারে রাজার ব্যক্তিগত বাসভবন হাইগ্রোভে দেখা করতে গেলেও সে সময় তাদের ফিরে আসার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়নি।

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, রাজা চার্লস তাদের ফেরার পরিকল্পনার কথা গত সপ্তাহেও জানতেন না। তবে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিসরে সাসেক্স পরিবারের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানোর সুযোগকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন।
প্রিন্স অব ওয়েলস উইলিয়াম ও প্রিন্সেস অব ওয়েলস কেট মিডলটনকেও হ্যারি-মেগানের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।
২০২০ সালের শুরুতে হ্যারি ও মেগান রাজপরিবারের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। একই বছরের মার্চে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস শুরু করেন।
এরপর থেকে রাজপরিবারের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল। তবে চলতি বছরের জুলাইয়ে রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলার সঙ্গে হ্যারি-মেগানের সাক্ষাৎকে পারিবারিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হয়। রাজপ্রাসাদ ওই সাক্ষাৎকে ‘ব্যক্তিগত পারিবারিক আয়োজন’ হিসেবে বর্ণনা করেছিল।
ওই সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে চার বছরেরও বেশি সময় পর রাজা চার্লস প্রথমবার তার নাতি-নাতনিদের সরাসরি দেখার সুযোগ পান। ২০২২ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার পর এই প্রথম হ্যারি ও মেগান একসঙ্গে যুক্তরাজ্যে এসেছিলেন।
যুক্তরাজ্যে হ্যারি-মেগানের নিরাপত্তা দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কের বিষয়। রাজপরিবারের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার পর হ্যারির নিরাপত্তা ব্যবস্থা কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
গত বছর যুক্তরাজ্যে অবস্থানের সময় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার মাত্রা বাড়ানোর দাবিতে করা আইনি চ্যালেঞ্জেও হেরে যান প্রিন্স হ্যারি।
হ্যারি এর আগে জানিয়েছিলেন, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণেই তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাজ্যে আসতে সংকোচ বোধ করেন।
তবে হ্যারি-মেগানের ফেরার পরিকল্পনার পর যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজপরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নির্ধারণ করে রয়্যালটি অ্যান্ড পাবলিক ফিগারস প্রটেকশনের নির্বাহী কমিটি। সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ‘কঠোর এবং প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ’ বলেও জানানো হয়েছে।
আগামী বছর বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আহত ও অসুস্থ সামরিক সদস্যদের জন্য হ্যারির প্রতিষ্ঠিত ইনভিক্টাস গেমস। জুলাইয়ের যুক্তরাজ্য সফরের সময় হ্যারি এই আয়োজনের প্রচারণায় অংশ নেন।
ইনভিক্টাস গেমস ফাউন্ডেশনের প্রধান কর্মসূচি ও কৌশল কর্মকর্তা ডেভিড ওয়াইজম্যান হ্যারির যুক্তরাজ্যে ফিরে আসাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর আশা, নতুন পরিবেশে হ্যারি ও মেগানের সন্তানরা ভালোভাবে মানিয়ে নেবে এবং স্কুলে স্বাচ্ছন্দ্যে শুরু করতে পারবে।
তবে জুলাইয়ের ওই সফরের সময়ই গোপনীয়তা সংক্রান্ত একটি মামলায় হাই কোর্টে হেরে যান প্রিন্স হ্যারি। ডেইলি মেইল ও মেইল অন সানডের প্রকাশক অ্যাসোসিয়েটেড নিউজপেপার্সের বিরুদ্ধে মামলায় হ্যারি ও আরও কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তি অভিযোগ করেছিলেন, সংবাদ প্রকাশের জন্য বেআইনি উপায়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানটি অভিযোগ অস্বীকার করে।










