ভারত সফরে বাংলাদেশের প্রাপ্তি তুলে ধরতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সবদিক থেকে যদি চিন্তা করি তাহলে শূন্য হাতে এসেছি এটি বলা যাবে না। তবে কি পেলাম না পেলাম এটা মনের ব্যাপার। মন যদি বলে কিছুই পাই নাই তাহলে আমার কিছু বলার নাই।
বুধবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলন এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন: ভারত থেকে আমরা তেল নিয়ে আসছি। আসাম থেকে আমাদেরর পার্বতীপুরে ডিপোতে এই তেল আসবে। এর জন্য যে পাইপলাইন সেটা তৈরী হয়ে গেছে। ভারতই সেটা তৈরি করে দিয়েছে। চট্টগ্রাম বাঘাবাড়ি থেকে তেল নিয়ে আর ওখানে যেতে হবে না। এতে করে সেখানকার মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি হবে। আমরা পণ্য উৎপাদন করি। তারপরও কিছু পণ্য আমাদের আমদানি করতে হয়। সব জায়গায় যখন ক্রাইসিস দেখা যায়, ভারত থেকে যেন সেটা পািওয়া যায় সে ব্যবস্থাটাও আমরা করছি। ভারত থেকে এলএনজি আমরা আমদানি করবো। খুলনা অঞ্চলে আমাদের গ্যাসের সমস্যা, সেখানে এই গ্যাস দিয়ে সমস্যা সমাধান করা যাবে। এভাবে যদি চিন্তা করি শূন্য হাতে যে আসছি সেটা আপনারা বলতে পারবেন না।
ভারত সফরে যথেষ্ট আন্তরিকতা পাওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন: ভারতে আমি যথেষ্ট আন্তরিকতা পেয়েছি। প্রেসিডেন্ট- প্রাইম মিনিস্টার যার সাঙ্গেই আমার কথা হয়েছে আন্তরিকতা পেয়েছি। বাংলাদেশের বিষয়ে ভারতের দল-মত নির্বিশেষে সবসময় এক থাকে। একাত্তরে ভারতের দল মত নির্বিশেষে জনগণ এক হয়ে আমাদের সমর্থন দিয়েছিল।আবার যখন আমরা স্থলসীমান্ত চুক্তি করেছি, তখন ভারতের সকল দল পার্লামেন্টে সেটার সমর্থন করেছে। বন্ধুপ্রতিম দেশ তাদের সঙ্গে সবসময় ভাল সম্পর্ক থাকবে, পাশাপাশি দুইটা দেশ এদের মধ্যে সমস্যা থাকতে পারে।
কিন্তু সকল সমস্যা আলোচনার মধ্যদিয়ে সমাধানের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন: কিন্তু আমি মনে করি আলাপ আলোচনার মধ্য দিয়ে সেগুলো সমাধান করা সম্ভব। ৬৫ সালে ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধ হয়েছিল, সে যুদ্ধে আমাদের রেল যোগাযোগ সড়ক যোগাযোগ অনেক কিছুই ধ্বংস হয়েছিল। সেগুলো একে একে আমি উন্মুক্ত করে দিচ্ছি, যাতে সীমান্তবর্তী ওই অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড আরো গতিশীল হয়।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন: আপনি যদি নিজে ভালো বন্ধু হন তাহলে সবাই ভালো থাকবে ।আর যদি নিজে একটু এদিক-ওদিক করেন তাহলে তো সবাই ভালো থাকে না। আমাদের পররাষ্ট্র নীতি একদম স্পষ্ট, সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়।
গত ৫ সেপ্টেম্বর চার দিনের সরকারি সফরে ভারতে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সফরে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও একান্ত বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে নিরাপত্তা সহযোগিতা, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্পর্ক, বিদ্যূৎ ও জ্বালানি খাতের সহযোগিতা, অভিন্ন নদীর পানি বন্টন, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, মাদক চোরাচালান ও মানব পাচার রোধ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সফরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাতটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। স্মারক সই শেষে দুই প্রধানমন্ত্রী যৌথ বিবৃতি দেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে শেখ হাসিনা ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ সেপ্টেম্বর ভারতে সরকারি সফর করেন।








