এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবি আদায় এবং শনিবার (৮ নভেম্বর) শাহবাগে শিক্ষকদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে রোববার (৯ নভেম্বর) থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা।
এ কর্মবিরতির ফলে সারাদেশে প্রায় ৬৫ হাজার ৫৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আজ থেকেই পাঠদান কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এসব বিদ্যালয়ে কর্মরত প্রায় ৩ লক্ষ ৮৪ হাজার শিক্ষক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।
শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক ও প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি শামসুদ্দিন মাসুদ এই কর্মবিরতির ঘোষণা দেন।
তিনি জানান, দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া এবং পুলিশের হামলার প্রতিবাদে রোববার থেকে সারাদেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালিত হবে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তাঁদের অবস্থান কর্মসূচিও অব্যাহত থাকবে।
শাহবাগে ‘কলম বিসর্জন’ কর্মসূচিতে হামলা: আহত শতাধিক শিক্ষক
কর্মবিরতির ঘোষণার আগে শনিবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে শিক্ষকরা তাঁদের ‘কলম বিসর্জন’ কর্মসূচি পালন করছিলেন। অভিযোগ, এই কর্মসূচিতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
সংবাদ সম্মেলনে শামসুদ্দিন মাসুদ দাবি করেন, পুলিশের রাবার বুলেটে শতাধিক শিক্ষক আহত হয়েছেন এবং অনেকেই বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর শিক্ষকরা শাহবাগ এলাকা ছেড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় আশ্রয় নেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণের কারণে অনেক শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েন।
শিক্ষকদের এই আন্দোলনের প্রধান তিন দফা দাবিগুলো হলো:
১. সহকারী শিক্ষকদের দশম গ্রেডে বেতন প্রদান। ২. উচ্চতর গ্রেডের জটিলতার স্থায়ী সমাধান। ৩. সহকারী শিক্ষকদের শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা।
এদিকে, শিক্ষকদের আরেকটি অংশ ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারকে দাবি মেনে নেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। তাঁদের দাবি বাস্তবায়ন না হলে ধাপে ধাপে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে:
- ২৩ ও ২৪ নভেম্বর অর্ধদিবস কর্মবিরতি এবং ২৫ ও ২৬ নভেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি।
- ২৭ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি।
তারা আরও জানিয়েছেন, আগামী ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে শিক্ষকরা পরীক্ষা বর্জন ও আমরণ অনশন কর্মসূচিতে যাবেন।







