বিশ্ববাজারে শুল্ক আরোপ, উৎপাদন হ্রাস ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের সয়াবিন বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি সরাসরি প্রভাব ফেলছে দেশের পোলট্রি শিল্প ও খাদ্য নিরাপত্তায়।
আমদানি খরচ বৃদ্ধি
ইউ এস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিল (ইউসেক) এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের তুলনায় বাংলাদেশে সয়াবিন ও সয়াবিন মিলের আমদানি খরচ বেড়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে সয়াবিনের ল্যান্ডেড খরচ প্রতি মেট্রিক টনে ৫১৫–৫১০ ডলার ঘোরাফেরা করছে। অন্যদিকে সয়াবিন মিলের দামও উচ্চ পর্যায়ে থাকায় পশুখাদ্য উৎপাদন খরচ বাড়ছে।
পোলট্রি খাতে প্রভাব
বাংলাদেশের পোলট্রি শিল্প সয়াবিন মিলের দামের ওপর নির্ভরশীল। খাদ্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্রয়লার ও ডিম উৎপাদনে খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, খামার পর্যায়ে ব্রয়লারের দাম কেজি প্রতি প্রায় ১২০-১২৫ টাকা এবং ডিমের দাম ডজনপ্রতি প্রায় ১১২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা থাকলেও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় খামারিদের উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশ্ববাজারের প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্রে ফলন কিছুটা বেড়েছে, তবে কানাডায় উৎপাদন ৭.৩ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে ইউক্রেন সয়াবিন রপ্তানিতে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহকে প্রভাবিত করবে। চীনে সয়াবিনের মজুত আগের বছরের তুলনায় বেশি থাকায় বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।
ভারতে অতিবৃষ্টি ও ইয়েলো মোজাইক ভাইরাসের কারণে সয়াবিন উৎপাদনে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তবে দেশটি সেপ্টেম্বরে প্রায় ১.৬–১.৮ লাখ মেট্রিক টন সয়ামিল রপ্তানি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিবহন ব্যয়
আমদানিকৃত সয়াবিনের ওপর পরিবহন ব্যয়ও বড় ভূমিকা রাখছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে জাপানে শস্য পরিবহনের খরচ টনপ্রতি ৫৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি। এই প্রবণতা বাংলাদেশের আমদানি খরচেও প্রতিফলিত হচ্ছে।
বাংলাদেশে সয়াবিন ও সয়াবিন মিলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পোলট্রি ও ডিম উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক না হয়, তবে স্থানীয় বাজারে ব্রয়লার ও ডিমের দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ অব্যাহত থাকবে।








