দেশের প্রেস কাউন্সিল একেবারেই অকার্যকর হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ।
প্রেস কাউন্সিল তার কার্যকারিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রেস কাউন্সিল অতীতে সরকারের দপ্তরে পরিণত হয়েছিল। অথচ এর ভূমিকা হওয়ার কথা ছিল স্বাধীন নিয়ন্ত্রক তদারকি প্রতিষ্ঠান হিসেবে। যেখানে সাংবাদিক ও সংবাদপত্র বিষয়ে দেখাশোনার করার কথা ছিল। এই প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এর বিলোপ ঘটিয়ে নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরি করা দরকার, যা আগামী দিনে কার্যকরী হবে এবং এর মাধ্যমে সাংবাদিকতার সব বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে এবং সাংবাদিকদের স্বাধীনতাকে সুরক্ষা দেওয়া হবে।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সাথে তিন পার্বত্য জেলায় ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন প্রধান কামাল আহমেদ এসব কথা বলেন।
সভায় কমিশনের সদস্য বেগম কামরুন্নেসা হাসান, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মোস্তফা সবুজ উপস্থিত ছিলেন।
রাঙামাটি তথ্য অফিসের উপপরিচালক অমীয় কান্তি খীসা, কমিশনের সদস্য সচিবসহ এ সভায় তিন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি খাগাছড়ি ও বান্দরবান জেলার ২৫টি উপজেলার সাংবাদিকগণ উপস্থিত থেকে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন।
তিন পার্বত্য জেলার সাংবাদিকদের সাথে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সভায় সুপারিশ মালায় বলা হয়-সাংবাদিকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার পাশাপাশি জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের হাত থেকে সংবাদমাধ্যমকে মুক্ত রাখতে হবে।
বিগত বছরে যেসব সাংবাদিকদের নামে মিথ্যা মামলা হয়েছে সেগুলো প্রত্যাহার করতে হবে। গত পনের বছরে যেসব ভুয়া পত্রিকা নিবন্ধিত হয়ে ডিএফপির তালিকাভুক্ত হয়েছে সেগুলোকে বাদ দিতে হবে। পত্রিকায় সম্পাদক হিসেবে যোগদান করতে হলে সাংবাদিকতায় কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে বা সাংবাদিকতায় পেশাগত ডিগ্রী থাকতে হবে। ভুয়া সাংবাদিকতা বন্ধের নিমিত্তে প্রেস ইনিস্টিটিউটে ডিপ্লোমা চালুকরণ বা সাংবাদিকদের মান উন্নয়নের জন্য স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান গঠন করতে হবে।
এছাড়াও সাংবাদিকরা আরো বেশ কয়েকটি সুপারিশমালা তুলে ধরেন।
তিন জেলার সাংবাদিকদের কথা শুনে কমিশন প্রধান কামাল আহমেদ বলেন, সংবাদপত্রকে স্বাধীন, শক্তিশালী ও বস্তুনিষ্ঠ করার জন্য এ সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে। এ কমিশনের প্রধান লক্ষ্য থাকবে সংবাদ প্রতিষ্ঠান এবং সাংবাদিকদের কাজের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
কমিশন প্রধান বলেন, দেশে নিয়মের তেয়াক্কা না করে একের পর এক টেলিভিশন চ্যানেল, অনলাইন পোর্টাল, প্রিন্ট ভার্সন বা অনলাইন রেডিওর অনুমতি দেয়া হয়েছে। ফলে একই খবর ভিন্ন ভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। এতে পাঠক ভিন্ন কোন মত বা বৈচিত্র পাচ্ছেন না। এগুলোর সমাধান আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।
আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মতামত বা সুপারিশ কমিশনের কাছে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, আপনাদের প্রেরিত মতামত বিবেচনা করে কিভাবে গণমাধ্যমে সংস্কার আনা যায় এ বিষয়ে কমিশন সুপারিশ পেশ করবে।







