ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে চলমান সহিংসতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে রাজ্যে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছিল, যা রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সিদ্ধান্তকে অপরিহার্য করে তোলে।
বৃহস্পতিবার ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার এই প্রেক্ষাপটে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সিদ্ধান্ত নেয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন। তার ফেরার পর বিজেপি নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের কথা ভাবলেও, তার আগেই রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়।
মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং গত রোববার পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের পেছনে মূল কারণ ছিল ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং বিরোধী দল কংগ্রেসের সম্ভাব্য অনাস্থা ভোটে হেরে যাওয়ার আশঙ্কা। বীরেন সিংয়ের পদত্যাগের পর রাজ্যে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, যা রাষ্ট্রপতি শাসন জারির দিকে নিয়ে যায়।
ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু মণিপুরের গভর্নর অজয় ভাল্লার প্রতিবেদন ও অন্যান্য তথ্য বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেন। তিনি মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মণিপুরে সংবিধান অনুযায়ী সরকার পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এটি ১৯৫১ সালের পর থেকে মণিপুরে ১১তম বারের মতো রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হলো।
মণিপুরে গত প্রায় দুই বছর ধরে চলছে সহিংসতা ও অশান্তি। ২০২৩ সালের মে মাসে মেইতেই ও কুকি-জো সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়, যা পরবর্তীতে ব্যাপক সহিংসতায় রূপ নেয়। গত বছরের সেপ্টেম্বরে এই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য রাজ্য সরকার পাঁচ জেলায় কারফিউ জারি করে এবং ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয়।
মণিপুরের এই সংকট শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং এটি সামাজিক ও জাতিগত উত্তেজনারও প্রতিফলন। মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা এবং সম্প্রদায়গত সংঘাত রাজ্যের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করেছে। রাষ্ট্রপতি শাসন জারির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার আশা করছে, রাজ্যে শান্তি ফিরে আসবে এবং একটি স্থিতিশীল সরকার গঠনের পথ সুগম হবে।








