দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে পেছনে ফেলে জয়ী হয়েছেন তিনি। জীবনের প্রায় প্রতিটি ধাপে আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ধনী পরিবারে জন্ম নেওয়া ট্রাম্প মনে করেন, কেবল অর্থ উপার্জনই একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়, জীবনে খ্যাতি ও জনপ্রিয়তাও সমান জরুরি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বহু বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। তার অভ্যুদয় এবং রাজনীতিতে প্রবেশের গল্প একেবারে অনন্য। ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প আমেরিকার রাজনৈতিক দৃশ্যপটে এক নতুন চেহারা নিয়ে আসেন। ব্যবসায়ী সত্ত্বা, প্রভাবশালী বক্তব্য, এবং সামাজিক মাধ্যমে তার সরাসরি যোগাযোগ তাকে জনসম্মুখে এক বিতর্কিত এবং অপ্রত্যাশিত চরিত্র হিসেবে পরিচিত করে তোলে।
ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশল ছিল একেবারে ভিন্ন। তিনি প্রচলিত রাজনীতি এবং প্রচারের কৌশলগুলোকে তীব্রভাবে চ্যালেঞ্জ করেন। “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতি, অভিবাসন বিরোধী অবস্থান এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের পুনর্বিবেচনা তার প্রশাসনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে ওঠে। তার এই অস্বাভাবিক নেতৃত্বের ধরণ তাকে সমর্থকদের কাছে এক উজ্জ্বল নেতারূপে প্রতিষ্ঠিত করলেও বিরোধীদের কাছে তাকে গণতন্ত্রের জন্য এক বিপজ্জনক চরিত্র হিসেবে দেখা হয়।
ট্রাম্পের রাজনৈতিক মঞ্চে উত্তাল উপস্থিতি শুধু মার্কিন রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। তা বিশ্বের অন্যান্য দেশের রাজনৈতিক অবস্থানকেও প্রভাবিত করেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং কূটনীতি থেকে শুরু করে জলবায়ু পরিবর্তন এবং নিরাপত্তা বিষয়ক নীতিতে তার কঠোর অবস্থান বিশেষভাবে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
ডোনাল্ড জে ট্রাম্প এর জন্ম ১৯৪৬ সালের ১৪ জুন, নিউইয়র্কের কুইন্সে। ২০১৫ সালের ১৫ জুন হঠাৎই প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করে ব্যবসায়ী থেকে পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ বনে যান তিনি। ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটনকে পরাজিত করে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের বাবা ফ্রেড ট্রাম্প ছিলেন নিউইয়র্কের আবাসন ব্যবসায়ী। মা মেরি ট্রাম্প স্কটিশ বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে ট্রাম্প চতুর্থ। ১৩ বছর বয়সে ট্রাম্পকে পাঠানো হয়েছিলো সামরিক একাডেমিতে। ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, ওই সময়টিই তার জীবনের সেরা। তবে ১৯৭০ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধে না গিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন তিনি। পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ারটন স্কুল থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক করেন ট্রাম্প। পরে বাবার ব্যবসায় যোগ দিয়ে গড়েছেন হোটেল, বহুতল ভবন, গলফ কোর্স, ক্যাসিনোসহ বহু ব্যবসা।
দীর্ঘদিন মিস ইউনিভার্সের স্পন্সর ছিলেন ট্রাম্প। ‘দ্য অ্যাপ্রেনটিস’ নামের টিভি রিয়্যালিটি শো উপস্থাপনা করে সেলিব্রেটি হয়ে যান। রেসলিং ম্যাচও উপস্থাপনা করেছেন তিনি।
পাঁচ সন্তানের জনক ট্রাম্প বিয়ে করেছেন তিনবার। তার প্রথম স্ত্রী চেক মডেল ইভানা। ১৯৯২ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। দ্বিতীয় স্ত্রী মার্লা ম্যাপলস। ১৯৯৩ সালে তাদের বিয়ে হয়। বিচ্ছেদ ১৯৯৯ সালে। সবশেষ ২০০৫ সালে জনপ্রিয় মডেল মেলানিয়াকে বিয়ে করেন ট্রাম্প।
অভিবাসী, মুসলিম, নারী ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তীব্রভাবে সমালোচিত হয়। তার বিরুদ্ধে অশালীন আচরণ ও যৌন হয়রানির অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। যদিও বিভিন্ন টিভি টক শোতে গিয়ে ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছেন সবসময় আলোচনা ও সমালোচনার মধ্যে থাকতে ভালোবাসেন তিনি।








