ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে শপথ নেবেন। একই সঙ্গে তাদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও আলাদা শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়।
তবে দুটি শপথ একসঙ্গে হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনে করছে, বিদ্যমান সংবিধানে শুধু সংসদ সদস্যদের শপথের বিধান আছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়ে সরাসরি কোনো উল্লেখ না থাকায় আলাদা শপথের আইনি ভিত্তি নিয়েও দলটির আপত্তি রয়েছে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা রয়েছে। আগামীকাল সকালে এমপিদের শপথ এবং বিকেলে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, সংসদ সদস্য ও সংস্কার পরিষদের জন্য আলাদা শপথনামা প্রস্তুত করা হয়েছে। সচিব কানিজ মওলা জানান, নবনির্বাচিত সদস্যরা দুটি পরিচয়েই শপথ নেবেন।
তবে বিএনপির সূত্র বলছে, দলটির ২০৯ জন এবং মিত্রদের ৩ জন সদস্য সংস্কার পরিষদের শপথ নাও নিতে পারেন। এমন হলে পরিষদ গঠন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
জুলাই সনদের কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে বিএনপির ভিন্নমত থাকলেও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি পূর্ণ বাস্তবায়নের পক্ষে। জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটে অনুমোদিত সংস্কার পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে।
আইনি বিতর্ক প্রসঙ্গে বিএনপির নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আদেশ জারির সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও সাবেক জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, আইনগত দিকের পাশাপাশি রাজনৈতিক বাস্তবতাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। গণভোট ও নির্বাচনে জনগণের রায়কে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব রাজনীতিকদেরই।








