নিজেকে ‘স্পেশাল ওয়ান’ বলেন হোসে মরিনহো, বাজিমাত করে অনেকবার শিরোনামে এসেছেন। গতমাসের শেষে পর্তুগিজ কোচের সামনে কঠিন সমীকরণ ছিল, সেখানে রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে উতরে নিয়েছেন বেনফিকাকে। শক্তিশালী রিয়ালকে শুধু হারালে চলত না, ব্যবধান রাখতে হতো ২ গোলের, নয়ত চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় হতো। সেটা করে দেখিয়েছে মরিনহোর দল। সেই লস ব্লাঙ্কোসদের বিপক্ষেই প্লে-অফে নামছে বেনফিকা। মঙ্গলবার ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে রিয়ালকে নিয়ে মরিনহো বললেন, ‘একজন আহত রাজা আরও বিপজ্জনক।’
হোসে মরিনহো বলেছেন, ‘রিয়াল আহত, আর আহত রাজা আরও বিপজ্জনক। আমরা প্রথম লেগে মাথা ঠাণ্ডা রেখে, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলব। আমরা জানি, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রাজাদের বিপক্ষে কী করতে হবে। নিঃসন্দেহে এটি হবে খুব কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং।’
‘লুজ স্টেডিয়ামে ট্রুবিন (বেনফিকার গোলরক্ষক) আক্রমণে উঠবেন না। আমি শেষ মুহূর্তের ড্রয়ে অভ্যস্ত। সারাজীবন এটাই করে এসেছি। মানুষ প্রায়ই মনে করে প্রথম লেগে নির্দিষ্ট ফল দরকার। আমি বলি, কোন ফলই চূড়ান্ত নয়।’
গতমাসের ২৮ তারিখ রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে লিগপর্বে রিয়ালের সমীকরণ ছিল তুলনামূলক সহজ। ড্র করলে সরাসরি নকআউটে, তথা শেষ ষোলোতে। অন্যদিকে বেনফিকা পয়েন্ট টেবিলে একদম টানটান অবস্থানে। ম্যাচের ৯০ মিনিট পর্যন্ত বেনফিকা এগিয়ে ছিল ৩-২ গোলে। লিসবনের ক্লাবটি শেষ মুহূর্তে গোল করতে না পারলে, জিতেও ছিটকে যেত। যোগ করা সময়ে দুটি লাল কার্ড দেখে ফেলে রিয়াল, লস ব্লাঙ্কোসরা হয়ে যায় ৯ জনের দল। শেষ সময়ে বেনফিকার আসরে টিকে থাকতে প্রয়োজন ছিল ১ গোল, অন্যদিকে প্লে-অফ এড়িয়ে নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করতে রিয়ালেরও দরকার ছিল একটি গোল, ম্যাচের আর কিছু মিনিট বাকি ছিল।
ম্যাচ যখন ৯০ মিনিট পেরিয়ে যোগ করা ৭ মিনিটে, ফ্রি-কিক পায় বেনফিকা। শট নিতে আসেন ফ্রেডরিক অরসনেস। সেই মুহূর্তে বেঞ্চ থেকে হাতের ইশারায় গোলরক্ষক আনাতোলি ট্রুবিনকে পোস্ট ছেড়ে রিয়ালের গোলবারে যেতে বলেন মরিনহো। পরে হেডে গোল করেন বেনফিকার গোলরক্ষকই, ৪-২ হয়। ২ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে যায় মরিনহোর দল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ছিটকে পড়া থেকে উঠে যায় প্লে-অফে। ঠেকিয়ে দিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদের সরাসরি নকআউটে যাওয়াও।







