শিশুর প্রাথমিক বিকাশ নিশ্চিত করতে পাঠ্যক্রম সংস্কার এবং শিক্ষক উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, শিশু কীভাবে শিখবে এবং শিক্ষক কীভাবে তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবেন, তার ভিত্তি তৈরি করে পাঠ্যক্রম। তাই প্রাথমিক শৈশব বিকাশে পাঠ্যক্রম সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
সোমবার ২২ জুন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)-এ অনুষ্ঠিত ‘ন্যাশনাল ডায়ালগ অন আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট: পলিসি অ্যান্ড প্র্যাকটিস’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইইউবির স্কুল অব ফার্মেসি অ্যান্ড পাবলিক হেলথের (এসপিপিএইচ) অধীন পাবলিক হেলথ বিভাগ এবং বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্ক (বিইএন) যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের শেখার ক্ষেত্রে মুখস্থনির্ভরতা ও পরীক্ষার ফলাফলের পরিবর্তে চিন্তাশক্তি, কৌতূহল, যোগাযোগ দক্ষতা এবং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার শিক্ষক প্রশিক্ষণ জোরদার এবং শিক্ষাদান পদ্ধতির আধুনিকায়নে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, শিশুদের প্রাথমিক বিকাশের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ের অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে সংলাপ আয়োজন করায় আইইউবি প্রশংসার দাবিদার।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইইউবির উপাচার্য এম. তামিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইইউবি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দিদার এ. হুসাইন, ট্রাস্টি জাভেদ হোসেন এবং ন্যাশনাল একাডেমি ফর প্রাইমারি এডুকেশনের (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমেদ।
ফরিদ আহমেদ বলেন, প্রাথমিক শৈশব বিকাশ কেবল বিদ্যালয় বা সরকারের দায়িত্ব নয়; এতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। এটি শুধু শ্রেণিকক্ষ বা অবকাঠামোর বিষয় নয়, বরং শিশুদের শেখা, বিকাশ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরির বিষয়।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক এম.তামিম বলেন, শিশুদের প্রাথমিক বিকাশ ও উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকার এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে আইইউবি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মাহমুদা আক্তার। তিনি প্রাথমিক শৈশব বিকাশের গুরুত্ব এবং প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন।
এছাড়া আইইউবির স্কুল অব ফার্মেসি অ্যান্ড পাবলিক হেলথের ডিন কামরান উল বাসেত শিক্ষক উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ বিষয়ে আরেকটি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং পরবর্তী উন্মুক্ত আলোচনা পরিচালনা করেন। এতে সরকারি সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন আইইউবির উপ-উপাচার্য ড্যানিয়েল ডব্লিউ. লুন্ড। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পাবলিক হেলথ বিভাগের সিনিয়র লেকচারার তানভীর আহমেদ এবং উদ্বোধনী বক্তব্য দেন সহযোগী অধ্যাপক বিলকিস বানু।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্ক (বিইএন) শিশুদের প্রাথমিক বিকাশ নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবীদের একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম। অ্যাডভোকেসি, জ্ঞান বিনিময়, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অংশীজনদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সংগঠনটি দেশে প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশ কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে। আইইউবি এ নেটওয়ার্কের একজন নির্বাহী সদস্য।







