ঢাকাই চলচ্চিত্রে বহু কালজয়ী সিনেমায় অভিনয় করে দর্শক হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছিলেন প্রবীর মিত্র। দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগে রবিবার (৫ জানুয়ারি) প্রয়াত হন এই অভিনেতা। তার মৃত্যুর পর যখন পরিবারের তরফে জানাজা ও দাফন নিয়ে তথ্য জানানো হয়- তখন অনেকের মনেই প্রশ্নের উদ্রেক হয়!
কারণ প্রবীর মিত্রকে বেশীর ভাগ দর্শক অনুরাগীসহ সিনেমা সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ হিন্দু ধর্মাবলম্বী বলে মনে করতেন। অভিনেতার মৃত্যুর পর সে বিষয়ে যদিও খোলাসা করেছেন শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর। তিনি রবিবার রাতেই জানান, ‘প্রবীর মিত্র ভাই মুসলামনই ছিলেন। ধর্মমতে তার জানাজা হবে এবং দাফন হবে।’
এ বিষয়ে আরো স্পষ্টভাবে কথা বলেন প্রবীর মিত্রের ছেলে। সোমবার দুপুরে প্রবীর মিত্রকে শেষবারের মতো মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সে করে আনা হয় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হয় তার জানাজা।
জানাজা শুরুর আগে বাবার ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ নিয়ে মুখ খুলেন তার ছেলে। তিনি উপস্থিত সবার উদ্দেশে বলেন, বাবার জানাজা শুরুর আগে একটি বিষয় পরিস্কার করে দিতে চাই। আমার বাবা একটি হিন্দু পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন, এবং আমার মা একটি মুসলিম পরিবারের সদস্য ছিলেন। কিন্তু তাদের যখন বিয়ে হয়, তখন আমার বাবা কনভার্ট হয়ে মুসলিম হয়েছিলেন। তখন তার নাম রেখেছিলেন মোহাম্মদ হাসান ইমাম।
এসময় প্রবীর মিত্রের এই ছেলে জানান, “নাম পরিবর্তন করলেও তার আগে থেকেই যেহেতু তিনি সিনেমায় প্রবীর মিত্র নামেই খ্যাতি পেয়েছিলেন, সেজন্য তিনি এই নামটিই বেশী ব্যবহার করতেন।”
এসময় ছেলে আরো বলেন,“বাবা একজন সরল মনের মানুষ ছিলেন। তাকে অপছন্দ করেন, ব্যক্তিজীবনে আমি এমন কাউকে কখনো পাইনি। তারপরেও চলার পথে উনার কথায় কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে দয়া করে ক্ষমা করে দিবেন।”
ধর্মান্তরিত হওয়া নিয়ে একাধিকবার বিভিন্ন গণমাধ্যমেও কথা বলেছেন প্রবীর মিত্র। নামের কারণে প্রবীর মিত্র হিন্দু না মুসলাম- এ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই প্রবীর মিত্রের পুরনো সাক্ষাৎকার নতুন করে সামনে আসতে দেখা গেছে।
তেমনেই একটি ভিডিওতে প্রবীর মিত্রকে বলতে শোনা যায়, “আমি তো কনভার্ট হয়েই ওর মাকে (স্ত্রী) বিয়ে করেছিলাম। তখন মুসলমান হয়েছিলাম। তখন প্রয়োজন হয়েছিল মুসলমান হওয়া, এখনও সে ধর্মেই আছি।”
ধর্ম নিয়ে প্রবীর মিত্র তার নিজের ভাবনা প্রকাশ করেন এভাবে, “ধর্ম নিয়ে আমার কোনো বাড়াবাড়ি নাই। সবার উপরে মানুষ সত্য তার উপরে নাই। মানুষ সবার উপরে।”







