পাকিস্তানের সদ্য ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তার সরকার ‘দুর্বল সরকার’ ছিল বলে স্বীকার করেছেন। এছাড়া দেশটির সেনাবাহিনীর ক্ষমতা নিয়েও কথা বলেছেন তিনি।
ইমরান খান জানান: ‘আমাদের হাত বাঁধা ছিল। আমাদের সব জায়গা থেকে ব্ল্যাকমেল করা হয়েছিল। ক্ষমতা আমাদের সাথে ছিল না। সবাই জানে পাকিস্তানের ক্ষমতা কোথায়, তাই আমাদের তাদের উপর নির্ভর করতে হয়েছিল।’
বুধবার পাকিস্তানের বোল নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব জানান।
ইমরান খানের সরকার অনাস্থা ভোটে হারার পর এপ্রিলে ক্ষমতা থেকে অপসারিত হয়। তিনি অভিযোগ করেন: রাশিয়া, চীন এবং আফগানিস্তানের বিষয়ে তার স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতির সিদ্ধান্তের কারণে আমরা ষড়যন্ত্রের শিকার হই।
ইমরান খানকে তার বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের রাতের ঘটনাগুলো স্মরণ করতে বলা হয় সাক্ষাৎকারে। এসময় তিনি এসব কথা বলেন।
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ প্রধান ইমরান খান জানান: তার সরকার ক্ষমতায় আসার সময় দুর্বল ছিল এবং জোটের অংশীদারদের খুঁজতে হয়েছিল। একই পরিস্থিতি আবার দেখা দিলে তিনি পুনরায় নির্বাচনের বিকল্প বেছে নেবেন এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুঁজবেন।
ইমরান খান ২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসেন। তিনিই একমাত্র পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী যিনি সংসদে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হন। পরে তার স্থলাভিষিক্ত হন পিএমএল-এন-এর শাহবাজ শরিফ।
শত্রুদের হুমকির কারণে দেশের জন্য একটি ‘শক্তিশালী সেনাবাহিনী’ থাকা অপরিহার্য ছিল জানিয়ে ইমরান বলেন, তবে একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী এবং একটি শক্তিশালী সরকারের মধ্যে ভারসাম্য স্থাপনেরও প্রয়োজন ছিল।
‘আমরা সবসময় তাদের উপর নির্ভর করেছিলাম। তারা অনেক ভালো কাজও করেছে কিন্তু তারা অনেক কিছু করেনি যা করা উচিত ছিল। তাদের ক্ষমতা আছে কারণ তারা ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ব্যুরো এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করে। আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল না’, বলেন ইমরান খান।







