জেনেভায় অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের ৬০তম অধিবেশনে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের মানবাধিকার লঙ্ঘন পরিস্থিতির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
মানবাধিকার কমিশনের তথ্য সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত মাসব্যপী অনুষ্ঠিতব্য নিয়মিত ৬০তম অধিবেশনে বাংলাদেশে প্রফেসর মোহাম্মদ ইউনুসের অন্তবর্তী সরকারের সময়কালে মৌলিক অধিকার, বাক স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, সাংবাদিক নির্যাতন, সংখ্যালঘু নির্যাতন, গোপালগঞ্জে হত্যাকাণ্ডসহ অসংখ্য ভয়াবহ মানবাধিকার লংঘনের মত ঘটনা প্রবাহের উপর জাতিসংঘের কন্সালটেটিভ স্ট্যাটাস অন্তর্ভুক্ত অধিক সংখ্যক মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিবেদন জমা পড়েছে এবং সেইসব প্রতিবেদন সমূহ আসন্ন অধিবেশন চলাকালে ডিবেট জেনারেলে এজেন্ডা হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে।
তথ্য সুত্রে জানা গেছে, জেনেভা ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘তুমুকু ডেভেলপমেন্ট এন্ড কালচার ইউনিয়ন’ (ইসিওএসওসি) ৪ আগস্ট ৬০তম অধিবেশনের এজেন্ডা আইটেম—৩ এ, বাংলাদেশ’স এটাক অন প্রেস টু স্টাইফল ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেসন। (বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমের উপর আক্রমণ মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে রোধ করার জন্য ) ডিবেট জেনারেলের আলোচনার জন্য জাতিসংঘ কর্তৃক নিবন্ধিত হয়েছে ।
একই দিনে তুমুকু ডেভেলপমেন্ট এন্ড কালচার ইউনিয়ন বাংলাদেশ বিষয়ে প্রতিবেদনে ‘জেনোসাইড ইন গোপালগঞ্জ, বাংলাদেশ’ (বাংলাদেশের গোপালগঞ্জে গণহত্যা) নামে জেনারেল ডিবেটে এজেন্ডা আইটেম- ৪ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
অপরদিকে, আফ্রিকান মানবাধিকার সংগঠন ‘জিরো পাউভরে আফ্রিক (ইসিওএসওসি), ১১ আগস্টের বিশেষ প্রতিবেদন আর্জেন্ট আপিল অন পলিটিকাল ভায়োলেন্স, হেরিটেজ ডিসট্রাকসন এন্ড হিউম্যান রাইটস ভায়োলেসনস ইন বাংলাদেশ (বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা, ঐতিহ্য ধ্বংস ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে জরুরী আবেদন) নামে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনেটি মানবাধিকার অধিবেশনের এজেন্ডা আইটেম – ৩ নিবন্ধিত হয়েছে। একই তারিখে (১১ আগস্ট) জেনেভা ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার সংগঠন ‘ইন্টারফেইথ ইন্টারন্যাশনাল’ (ইউএন কন্সালটেটিভ স্ট্যাস্ট্যাস) অধিবেশনের এজেন্ডা আইটেম ৯ এ, ইনটোলারেন্স এন্ড ভায়োলেন্স এগেনস্ট রিলিজিঅন্স মাইনোরিটিস ইন বাংলাদেশ (বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অসহিষ্ণুতা এবং সহিংসতা) শীর্ষক দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
জেনেভাসহ জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনে কর্মরত একজন মানবাধিকার কর্মী রহমান মামুন তথ্য সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, তার দীর্ঘ কর্ম জীবনে বাংলাদেশের মানবাধিকার লঙ্ঘনের উদ্বেগ জনক পরিস্থিতি ও এত অধিক সংখ্যক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার রিপোর্ট মূল অধিবেশনে নিবন্ধিত অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম । এত অধিক সংখ্যক রিপোর্ট আগে কখনো নিবন্ধিত হয়নি।
নির্ভরযোগ্য তথ্য সূত্রে তিনি জানিয়েছেন, ৬০ তম মানবাধিকার অধিবেশন চলাকালে এবং একই সময়ে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ প্রধান দপ্তরে অনুষ্ঠিতব্য ৮০ তম সাধারণ অধিবেশন চলাকালীন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক সাইড ইভেন্ট, ডিবেট জেনারেল ও ইন্ট্যারেক্টিভ ডায়লগে উচ্চ কন্ঠে প্রশ্ন উত্থাপন করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
মানবাধিকার কর্মী রহমান মামুন বলেন, বিগত এক বৎসর সময়কালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান নোবেল লরিয়েট প্রফেসর মোহাম্মদ ইউনুসের আন্তর্জাতিক সম্মান ও মর্যাদাকে মূল্যায়ন করে আন্তর্জাতিক বিশ্বে মানবাধিকার সংগঠনগুলো চুপ থাকলেও আগামী দিনগুলোতে তিনি এবং তার সরকার বাংলাদেশে তার সময়কালে অসংখ্য হত্যাকাণ্ড, সহিংসতা, নারী নির্যাতন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, আদালতে মব ভায়োলেন্সের মত অপরাধের জন্য তির্যক প্রশ্নবিদ্ধ ও অসম্মানিত হতে পারেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সেপ্টেম্বর মাসে জেনেভায় মানবাধিকার অধিবেশন চলাকালে এবং নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে ড. ইউনুসের সফরকে কেন্দ্র করে, ৭১’র স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অসংখ্য বাঙালি সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নিপিড়ন, সাম্প্রদায়িক নির্যাতন, মব হত্যা, বিচার বহির্ভূত হত্যা ও ভয়াবহ মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রতিবাদে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও পোস্টার প্রদর্শনীর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।








