জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্য থেকে নির্দলীয় উপাচার্য নিয়োগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (২১ আগস্ট) উপাচার্য ভবনের সামনে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কার আন্দোলন’ এর ব্যানারে এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। এসময় শিক্ষার্থীরা- ‘অতিথি পাখি, মানি না-মানবো না’, ‘জবি থেকে ভিসি, দিতে হবে, দিয়ে দাও’ এসব স্লোগান দিতে থাকেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য নিয়োগ না দেওয়া হলে কঠোর আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দেন।
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রিয়াজুল বলেন, বারবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবহেলা করা হচ্ছে। তাদেরকে ন্যায্য সম্মান থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। বাইরে থেকে উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এক স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আর স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা মেনে নিতে চায় না।
লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী স্বর্ণা রিয়া বলেন, আমরা চাচ্ছি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভিসি হোক। কিন্তু কোনো দলীয় শিক্ষক আমরা চাই না। দলীয় শিক্ষক উপাচার্য হলে তিনি পরবর্তীতে দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবে এটা আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা মেনে নিব না।
অবস্থান কর্মসূচিতে সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরেই উপাচার্য নিয়োগের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বারবার বলে আসছে ৭০০ জন শিক্ষকের মধ্যে অধ্যাপক আছেন ১৫০ জন। এর মধ্যে গ্রেড-১ প্রফেসর ৪০ জন আছেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ডেপুটেশনে অন্য জায়গায় গিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন তাহলে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হওয়ারও যোগ্যতা রাখেন তারা।
তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা এসে বলে তাদের শুনতে হয় ‘তোমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষক না গেলে নেতৃত্ব পাওয়া যায় না’। এটা খুবই লজ্জার, কেন আমাদের ছাত্রদের এটা শুনতে হবে।
কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক নাসির বলেন, আমরা এবার আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য চাই না, কারণ তারা এসেই তিন-চারটা শিক্ষকদের গ্রুপ করে। আগের উপাচার্যদের সঙ্গে আমরা যেই শিক্ষকই তর্কে যেতাম তাদের হয়রানি করা হতো।
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক ড. মো. বিলাল হোসাইন বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ হাজার শিক্ষার্থী, আর ৭০০ শিক্ষক সকলে এই দাবির সঙ্গে একমত। আমরা আমাদের দাবি পূরণ করে ছাড়বো, ইনশাআল্লাহ।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য নিয়োগের দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচিও চলছে। ভাষা শহীদ রফিক ভবন ও ভাস্কর্য চত্বরসহ সব বিভাগেই শিক্ষার্থীদের থেকে স্বাক্ষর গ্রহণ কর্মসূচি চলছে। এসময় দেখা যায় শিক্ষার্থীরা স্ব-প্রণোদিত হয়ে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছে।








