গেল বছরের শুরু থেকেই আলাদা থাকছেন ঢালিউডের তারকা দম্পতি শরিফুল রাজ ও পরীমনি। ছেলে পুণ্যকে নিয়ে পরীর সংসার! বিচ্ছেদের ফলে পরী তো দূর, ছেলের সাথেও নেই রাজের সাক্ষাৎ। তবে দীর্ঘদিন পর নাকি সাক্ষাৎ হলো রাজ-পরী-পুণ্যর!
মাসখানেক হলো পরীর বাসায় নাকি যাতায়াত করছেন রাজ। এরমধ্যে কয়েকটি অনুষ্ঠানেও দুজনের দেখা হয়েছে। একসঙ্গে না হলেও সর্বশেষ মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার ২০২৩ এর অনুষ্ঠানেও ছিলেন এই দুই তারকা। এরইমধ্যে পুণ্যকে দেখার জন্য বেশ কয়েকবার পরীমনির বাসায় গেছেন রাজ।
বাসায় যাওয়ার বিষয়টি দেশের শীর্ষদৈনিকের অনলাইন ভার্সনে দেয়া সাক্ষাৎকারে নিশ্চিত করেছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অন্য একটি বিষয়ের জন্য সে (রাজ) বাসায় এসেছিল। বিচ্ছেদ হওয়ার পর আমার সঙ্গে দেখা হয়নি। আমি দেখা করতেও চাইনি। বাসায়ও আসা মানা ছিল তার। কিন্তু হঠাৎ করেই কিছু দিন আগে আমার বাসায় এসেছিল। সেই সময় বাসা থেকে যাওয়ার আগে তার কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র আমার বাসায় রয়ে গিয়েছিল। কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বাসায় এসেছিল। কাগজপত্রগুলো আমি যত্ন করেই রেখে দিয়েছিলাম। এসে নিয়ে গেছে। বেশ অনেকক্ষণই ছিল। এলে তো আর বের করে দিতে পারি না।’
ছেলের সঙ্গে দেখা হয়েছে কিনা, জানতে চাইলে অভিনেত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ, দেখা তো হবেই। তারও তো সন্তান পুণ্য। আমি রান্না করেছিলাম। সবাই মিলে একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেছি। এই আরকি।’
তা হলে দুজনের মধ্যে সম্পর্কের বরফ কি গলতে শুরু করেছে? এ নিয়ে পরীর ভাষ্য, সেটি হতে পারতো। কিন্তু সেটা মেইনটেইন করেনি রাজ। এই শহরে অনেকেরই তো বিচ্ছেদ হয়েছে, হয়। সন্তানকে ঘিরে কি বিচ্ছেদ বাবা-মায়ের দেখা-সাক্ষাৎ হয় না? কথা হয় না? সন্তানকে ঘিরে সুন্দর সময়ও কাটে না বাবা-মায়ের? কিন্তু রাজের বিষয়টি ভিন্ন। ও বাচ্চাকে সময় দেয়নি। সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেয়নি। শখ করেও কোনো দিন সন্তানকে খেলনা পর্যন্ত কিনে দিতে দেখলাম না। ঠিকমতো খবরই তো রাখেনি। আমার মনে হয়, সন্তানের মর্মই ও বোঝে না।
এদিন রাজের জন্য একটি ‘নির্মম’ তথ্যও শেয়ার করলেন পরী। বলেন, ‘কয়েক দিন তো দেখলাম। রাজ পুণ্যকে কোলে নিতে চাইলে ওভাবে রাজকে বাবা হিসেবে চিনতে পারে না এখন। অথচ আগে রাজ ছাড়া পুণ্য কিছুই বুঝত না। এটি রাজের জন্য নির্মম।’
তবে সব কিছুর পরেও রাজকেই নিজের জীবনের অতীত অধ্যায় বলেই মনে করেন পরী। সন্তানের স্বার্থে রাজের উদ্দেশে এদিন কিছু পরামর্শও রাখলেন পরী। বলেন, “অনেক কিছুই তো শুনি রাজকে নিয়ে। এমন কোনো কাজ যেন বাবা হিসেবে রাজ না করে, যাতে বড় হয়ে সবার কাছে ছোট হয় সন্তান। কারণ সন্তানের বাবা হিসেবে রাজকে তো আর অস্বীকার করতে পারব না।”








