নিউমোনিয়ার বিরুদ্ধে ৩৮ দিনের লড়াইয়ের এক পর্যায়ে মৃত্যুর এত কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন পোপ ফ্রান্সিস যে তার ডাক্তাররা চিকিৎসা বন্ধ করার কথা ভেবেছিলেন। শেষ পর্যন্ত, তাদের চিকিৎসা প্রচেষ্টা সফল হয় এবং তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোমের জেমেলি হাসপাতালের চিকিৎসক সার্জিও আলফিয়েরি জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি শ্বাসকষ্টের কারণে ফ্রান্সিসের দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ছিল অত্যন্ত ক্ষীণ। এমন অবস্থায় তার মেডিকেল টিম কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হয়েছিল—তারা চিকিৎসা বন্ধ করবে নাকি ঝুঁকি নিয়েও তাকে সুস্থ করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
৮৮ বছর বয়সী পোপ ফ্রান্সিস ১৪ ফেব্রুয়ারি ব্রঙ্কাইটিসের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হন, যা পরে ডাবল নিউমোনিয়ায় পরিণত হয়। তার পূর্ববর্তী শারীরিক অবস্থা, বিশেষ করে তরুণ বয়সে প্লুরিসি রোগে আক্রান্ত হয়ে একটি ফুসফুসের অংশ হারানোর কারণে, এই সংক্রমণ তার জন্য আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
ভ্যাটিকান কর্তৃপক্ষ তার স্বাস্থ্য সম্পর্কে প্রতিদিনের আপডেট প্রদান করছিল, যেখানে তার শ্বাসনালীর সংকোচনের কারণে গুরুতর কাশির সমস্যা এবং হাঁপানির মতো লক্ষণের কথা উল্লেখ করা হয়। ডাক্তার আলফিয়েরি জানান, পোপের ব্যক্তিগত নার্স ম্যাসিমিলিয়ানো স্ট্র্যাপেটি চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন। তার কথায়, “সবকিছু চেষ্টা করে দেখুন; হাল ছেড়ে দেবেন না।”
এই প্রচেষ্টার ফলে পোপের শরীর ধীরে ধীরে ওষুধের প্রতি সাড়া দিতে শুরু করে, তার ফুসফুসের সংক্রমণ হ্রাস পায় এবং অবস্থা উন্নতির দিকে যায়। চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে ফ্রান্সিসের আরও দুই মাস বিশ্রাম প্রয়োজন। তবে আগামী সপ্তাহগুলোতে জনসমক্ষে তার উপস্থিতি কতটা থাকবে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি।
গত রোববার হাসপাতাল থেকে মুক্তির পর, তিনি শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশে হাত নাড়িয়ে স্বাগত জানান। চিকিৎসক আলফিয়েরি বলেন, আমি তাকে সাদা পোশাক পরে জেমেলির দশম তলা থেকে বেরিয়ে আসতে দেখেছি। তখনই আমি উপলব্ধি করি, তিনি আবার পোপ হিসেবে তার দায়িত্ব পালনে ফিরছেন।







