খেজুর নিয়ে হঠাৎ আলোচনাটা নিয়ে এসেছেন তরুণ সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। নিজের সংসদীয় এলাকার জন্য খেজুরের সরকারি বরাদ্দের পরিমাণ ঘোষণা করে আলোচনাটা উস্কে দিয়েছেন তিনি।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বিষয়টা আলোচনার টেবিলে না নিয়ে আসলেও রমজান মাসে খেজুর সবসময় এক আলোচিত বিষয়। অন্য সময় না হলেও এই মাসে খেজুর খাওয়ার মতো খেজুর নিয়ে আলোচনাটাও কম হয় না।
অবশ্যম্ভাবীভাবে কয়েকটা প্রশ্ন তাই উঠতেই পারে: রমজানে ইফতারের সময় সামর্থ্য অনুযায়ী খেজুর প্রায় অপরিহার্য কেন? বাংলাদেশে খেজুর কি শুধুই আমদানি করা ফল? নাকি এখানেও উৎপাদন হচ্ছে খেজুর?
হাসনাত আব্দুল্লাহর সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খেজুর নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ খেজুর যেমন ধর্মীয় ঐতিহ্যের অংশ, তেমনি বাংলাদেশের জন্য এটি এক বড় বাজারও।
ইসলামে খেজুরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। হাদিসে উল্লেখ আছে, রাসুল (সা.) খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। তাই রমজান মাসে রোজা ভাঙার সময় খেজুর খাওয়ার একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে মুসলিম সমাজে। অনেকের কাছে এটি শুধু খাবার নয়, বরং সুন্নত অনুসরণের অংশও।
পুষ্টিগুণের দিক থেকেও খেজুর বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এতে প্রাকৃতিক চিনি, ফাইবার, পটাশিয়াম, আয়রনসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান থাকে। দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর শরীরের দ্রুত শক্তি ফিরে পেতে খেজুর সহায়ক বলে পুষ্টিবিদরা মনে করেন। হজমে সহায়তা করা এবং শরীরে দ্রুত শক্তি জোগানোর কারণেও এটি জনপ্রিয়।
অর্থনৈতিক দিক থেকে খেজুরের বাজার কম বড় নয়। বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৯০ হাজার টন খেজুরের চাহিদা রয়েছে। এর বড় অংশই রমজান মাসে খাওয়া হয়।
এই চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ খেজুর আমদানি করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বছরে প্রায় ৮০ থেকে ৮৬ হাজার টন খেজুর আমদানি হয়েছে।
আমদানি মূল্য হিসাব করলে বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকার খেজুর দেশে আসে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, খুচরা বাজারে হিসাব করলে বাংলাদেশে খেজুরের মোট বাজার আকার ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার কোটি টাকার মতো।
বাংলাদেশে খেজুর মূলত সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান, তিউনিসিয়া ও মিশর থেকে আসে। দেশের বাজারে পাওয়া অধিকাংশ খেজুরই বিদেশি।
তবে স্থানীয়ভাবে খেজুর চাষের উদ্যোগও ধীরে ধীরে বাড়ছে। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, যশোর ও কুষ্টিয়াসহ কয়েকটি জেলায় উন্নত জাতের খেজুর গাছ লাগিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু হয়েছে। যদিও বাণিজ্যিক উৎপাদন এখনো সীমিত, তবু কৃষিবিদরা মনে করেন ভবিষ্যতে এটি নতুন কৃষি সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
সব মিলিয়ে খেজুর শুধু রমজানের ইফতারের একটি খাবার নয়– এটি ধর্মীয় ঐতিহ্য, পুষ্টি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং কৃষি সম্ভাবনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্য।








