এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ভারতের রাজধানী দিল্লির একটি প্লে স্কুল ও ডে-কেয়ারে তিন বছরের এক শিশুকে চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর-পূর্ব দিল্লির মৌজপুর এলাকার মাকুনস প্লে স্কুলে। ভিডিওতে দেখা যায়, ছোট একটি হলুদ প্লাস্টিকের চেয়ারে বসা শিশুটিকে এক নারী পা দিয়ে ঠেলে টাইলসের মেঝে পার করে একটি কোণায় নিয়ে যান। এরপর শিশুটিকে একাধিকবার জোরে চড় মারতে দেখা যায়।
ঘটনায় দিল্লি পুলিশ শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইন (পকসো) আইনে মামলা করেছে। মামলায় স্কুলের পরিচালক সুনীতা বনসাল, অধ্যক্ষ নীলম এবং শিক্ষক সিমরান ও পূজাসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এক কেয়ারটেকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শিশুটির বাবা-মায়ের দাবি, প্রথমে স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের মারধরের ঘটনা ঘটেনি বলে অস্বীকার করে। পরে তারা শ্রেণিকক্ষের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করেন।
এর আগে শিশুটি কানে ব্যথার কথা বাবা-মাকে জানায়। তার মুখ ও হাতে আঘাতের চিহ্নও দেখতে পান তারা। পরে শিশুটিকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, তার দুই কানের পর্দা ফুলে গেছে এবং আঘাতের ধরন দেখে শারীরিক নির্যাতনের আশঙ্কা রয়েছে।
এরপর শিশুটির বাবা-মা স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন। তবে শিশুটির বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, স্কুল কর্তৃপক্ষ শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে।
পরে শিশুটির বাবা-মা শ্রেণিকক্ষের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখতে চান। শিশুটির বাবার অভিযোগ, সিসিটিভির লগইন তথ্য ও ফুটেজের অ্যাক্সেস দিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ ১ হাজার ৫০০ রুপি দাবি করে।
টাকা দেওয়ার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের সিসিটিভি ফুটেজ দেয় বলে দাবি করেছেন শিশুটির বাবা।
শিশুটির মা ১৬, ১৭ ও ১৮ আগস্টের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন। পরিবারের দাবি, ফুটেজে দেখা গেছে, শিশুটিকে অ্যাপ্রন দিয়ে চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। এ সময় এক শিক্ষক ও এক কেয়ারটেকার শিশুটির সঙ্গে শারীরিকভাবে দুর্ব্যবহার ও মারধর করছেন বলেও অভিযোগ করেছে পরিবার।









