ঢাকার আশুলিয়ায় তুরাগ নদী থেকে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ভিন্ন ভিন্ন দাবি সামনে এসেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পিকনিকে গিয়ে ট্রলার থেকে পড়ে পানিতে ডুবে ওই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশকে কেন্দ্র করে তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
নিহত কিশোরের নাম সুমন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে আশুলিয়া বাজারসংলগ্ন তুরাগ নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় মৃতের ভাই সালাহ উদ্দিন বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেন।
সুমন ঢাকার তুরাগ থানাধীন রানাভোলা এলাকার শাহ আলমের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি আড়তে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার পিকনিক করতে বন্ধুদের সঙ্গে ট্রলারে করে তুরাগ নদে যায় সুমন। সে সময় ট্রলার থেকে নামার সময় নদীতে পড়ে তলিয়ে যায় সুমন। এরপর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। রাতে মরদেহটি নদীতে ভাসতে দেখে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় তার তার পকেট থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। ওই ফোনের সিম থেকে যোগাযোগ করা হলে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ শনাক্ত করেন।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে মরদেহটি ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। মৃত ব্যক্তি পিকনিক করতে গিয়ে পানিতে পড়েন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।’
তবে এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। এসব পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, সুমন তুরাগ থানার ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ২২ জুন আওয়ামী লীগের একটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কারণে তাকে ধাওয়া করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
ভাইরাল এসব পোস্টে আরও দাবি করা হয়েছে, একই এলাকার যুবলীগ কর্মী হিসেবে পরিচিত বিপ্লব এবং তুরাগ থানা ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে পরিচয় দেওয়া আরিফুলের মরদেহও উদ্ধার হয়েছে। তবে আশুলিয়া ও তুরাগ থানা পুলিশ এসব দাবির কোনো সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।
সুমনের পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যু নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তার ভাই সালাউদ্দিন অপমৃত্যু মামলার বাদী হয়েছেন।
ওসি তারিকুল ইসলাম বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয়েছে—সুমন স্থানীয় একটি গুদামে কাজ করতেন এবং পিকনিকে গিয়ে নদীতে পড়ে মারা গেছেন।
তিনি বলেন, “পরিবার জানিয়েছে, সে সাঁতার জানত না। নদীতে পড়ে যাওয়ার পরই তার মৃত্যু হয়।”
এদিকে তুরাগে সুমনসহ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হত্যার অভিযোগ তুলে বিচার দাবি করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন।
শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, তুরাগ নদী থেকে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের তিন নেতাকর্মীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আরও চারজন নিখোঁজ রয়েছেন।
রিপনের অভিযোগ, ২২ জুনের মিছিলে হামলার পর কয়েকজন নেতাকর্মীকে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। তিনি ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, সুমনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বা কোনো রাজনৈতিক মিছিলে অংশ নেওয়ার বিষয়ে পরিবার পুলিশকে কোনো তথ্য দেয়নি। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো দাবির বিষয়ে পুলিশ এখনো কোনো প্রমাণ পাওয়ার কথা জানায়নি।







