রাজধানীর গুলশানে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) মাহফুজ্জামান সরকারকে মারধরের ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন, তারা হলেন, মোরশেদ আলম, মো. বিল্লাল হোসেন, মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন, স্বপন সরকার ও সিফাত ইউনুস লেলিন।
হামলার শিকার মাহাফুজ্জামান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগে কর্মরত। তিনি বিসিএস ৩১ ব্যাচের কর্মকর্তা।
ঘটনার বিষয়ে ডিএমপির জনসংযোগ বিভাগের উপ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় হাতিরঝিল থানায় সাতজনকে আসামি করে মামলা করা হয়। পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ জানায়, বুধবার মধ্যরাতে রাজধানীর হাতিরঝিলে ব্যক্তিগত গাড়িতে ঘষা লাগাকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডার মধ্যে এডিসি মাহফুজ্জামানকে মারধর করা হয়েছে।
এডিসি মাহফুজ্জামান ডিউটি শেষে বাসায় ফেরার সময় পুলিশ প্লাজার পেছনে কয়েকজনের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ১০-১২ জন মিলে তার উপরে অতর্কিত হামলা চালায়। এ ঘটনায় হাতিরঝিল থানায় মামলা হয়েছে।
এ হামলায় আহত মাহাফুজ্জামানের শরীরে ১৭টি সেলাই লেগেছে। এখন তিনি রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
জানতে চাইলে ডিএমপির ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) সৈয়দ মোহাম্মদ ফরহাদ বলেন, ‘পুলিশ প্লাজার পেছনে কয়েকজনের সঙ্গে এডিসি মাহফুজ্জামানের গাড়ি নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে ১০-১২ জন এসে তার ওপর অতর্কিত হামলা করে। সে এখন বর্তমানে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে হাতিরঝিল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করছে।’
রাজনৈতিক কোনো দলের সদস্যরা তার উপরে হামলা চালিয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শুনেছি, যারা তার উপরে হামলা চালিয়েছে, তারা ব্যবসায়ী। এখানে রাজনৈতিক কোনো ঘটনা না।’
এডিসি মাহফুজ্জামানের স্ত্রী জানান, তার (মাহফুজ্জামান) অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। তিনি ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার রাতে ডিএমপির হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মর্তুজা বলেন, ‘এডিসি মাহফুজ্জামানের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।তারা সবাই ব্যবসায়ী। ঘটনার আগে তারা মদ পান করেছিলেন। এ বিষয়ে আমাদের তদন্ত চলমান রয়েছে।’
হামলাকারীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় আছে কি না জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘তাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। গ্রেপ্তাররা ঘটনার আগে একটি ক্লাব থেকে বের হয়েছিল। পরে গাড়ি ধাক্কাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।’








