কোটা সংস্কার আন্দোলনের কারণে সাড়ে চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। এতে শাহবাগ দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া অন্যান্য যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। পুলিশ বলছে, বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ দিন। বিকেল থেকে সব অফিস-আদালত ছুটি হলে সড়কে যানবাহনে চাপ বাড়বে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। তাদেরকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে, সড়ক অবরোধ যেন ছেড়ে দেয়। তা না হলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা বাতিল করে ২০১৮ সালে সরকারের জারি করা পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের আন্দোলন করছে। বৃষ্টির মধ্যেও আন্দোলনকারীরা রাস্তা ছাড়েননি বরং কেউ বৃষ্টিতে ভিজে, কেউ ছাতা মাথায় দিয়ে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান করছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।অবরোধের কারণে শাহবাগ মোড় দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
অবরোধে শাহবাগে নেই গাড়ি, হেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছেন মানুষ
বৃহস্পতিবার বিকেলে শাহবাগের আশপাশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শাহবাগ মোড়ের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। তবে ফার্মগেট থেকে শাহবাগমুখী যানবাহনগুলো হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনের রাস্তা এবং বাংলামোটর হয়ে ও অপরপাশে কিছু গাড়ি নিউমার্কেট হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে এবং চাঁনখারপুল হয়ে চলাচল করছে। তবে স্বল্প গাড়ি চলাচল করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে শাহবাগে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী এবং তাদের স্বজনদের পোহাতে হচ্ছে। অনেকেই শাহবাগ এলাকা থেকে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছুটছেন।
আমাদের দাবি মৌলিক অধিকার
আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও দলনিরপেক্ষ ছাত্র সংগঠন গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় মহাসচিব নাহিদ ইসলাম বলেন, কোটা কোনো সাংবিধানিক বা মৌলিক অধিকার নয়। বরং আমাদের দাবি মৌলিক অধিকার। সংবিধান সুযোগের সমতার কথা বলেছে। আজ মেধাবীদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে। আর একদিনও মেধাবীদের অধিকার ক্ষুণ্ন হোক, এটা আমরা চাই না। শিক্ষার্থীদের দাবি-২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখা।
শাহবাগে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনের সমন্বয়কারী হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে। আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের বিপক্ষে নই। আমাদের দুই বেলা পেট ভরে খাওয়ার জন্য পড়াশোনা করি। কোটা পুনর্বহাল করার মাধ্যমে মূলত আমাদের মুখের সামনে থেকে খাবার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমরা আমাদের ভাতের অধিকার আদায় করেই এখান থেকে যাবো। আরেক সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ বলেন, আমরা কোটা পুনর্বহালের আদেশ মানি না। সারাদেশের শিক্ষার্থীরা এই বৈষম্য মানে না।
যা বলছে পুলিশ
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাজিরুর রহমান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। অফিস ছুটির আগে সড়ক ছেড়ে দিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। তাদেরকে অনুরোধ জানানো হয়েছে তারা যেন সড়ক অবরোধ না করে। সড়ক অবরোধ ছেড়ে না দিলে কোনো অ্যাকশন নেওয়া হবে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সময় অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
এদিন সকাল সাড়ে ১১টায় শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হন। পরে মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার দা সূর্যসেন হল, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল, উপাচার্যের বাসভবন, রাজু ভাস্কর্য ঘুরে শাহবাগ এসে অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা আন্দোলনের পক্ষে নানা স্লোগান দেন। শিক্ষার্থীরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া আন্দোলন চলমান থাকবে। একইসাথে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচিও চলমান থাকবে।
এর আগে নিজেদের দাবি আদায়ে গতকাল বুধবার বিক্ষোভ-মিছিল এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছিলেন ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ব্যানারের শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা। আন্দোলনকারীরা ১ জুলাই থেকে টানা কর্মসূচি পালন করছেন।







