আবদুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে মোটরসাইকেলে এক তরুণীকে অচেতন অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে শনাক্ত করেছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে সুস্থ আছেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) টঙ্গী পশ্চিম থানায় এসে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন ওই তরুণী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মোটরসাইকেলে অচেতন অবস্থায় থাকা ওই তরুণীর তিনটি ছবি প্রথম ফেসবুকে পোস্ট করেন মুফতি মনোয়ার হোসেন। ওমরাহ শেষে বিমানবন্দর থেকে বগুড়ায় ফেরার পথে তিনি ওই দৃশ্য দেখতে পান। পরে ৯৯৯-এ কল করে বিষয়টি জানান।
মনোয়ার হোসেনের পোস্টে বলা হয়, বুধবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে উত্তরার আবদুল্লাহপুর পার হওয়ার পর তিনি একটি মোটরসাইকেল অনুসরণ করেন। একজন যুবক মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। পেছনে থাকা আরেক যুবক তরুণীকে জাপটে ধরে রেখেছিলেন। তরুণীর একটি পা মোটরসাইকেলের বাইরে ঝুলছিল। কাছ থেকে প্রাইভেটকারে থাকা অবস্থায় তিনি ওই দৃশ্যের ছবি তোলেন। তরুণী ঘুমিয়ে আছেন নাকি মারা গেছেন, তা নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় তিনি পুলিশের জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন।
ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে মোটরসাইকেল আরোহীদের পরিচয় শনাক্ত করে গাজীপুর মহানগর পুলিশ।
শনিবার দুপুরে ওই তরুণীকে টঙ্গী পশ্চিম থানায় ডাকা হয়। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তরুণী জানান, পারিবারিক চাপ সহ্য করতে না পেরে বুধবার রাতে তিনি বাসা থেকে বের হয়ে উত্তরার জসীমউদ্দীন এলাকার একটি বারে যান। সেখানে একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তার স্বজনরা তাকে নিতে আসেন।
তিনি বলেন, ‘আমি গাড়িতে ওঠা পর্যন্ত আমার জ্ঞান ছিল। এরপর আমার জ্ঞান ছিল না। আমার সাবেক স্বামী আমি মারা গেছি, এমন তথ্য ছড়িয়েছে। এ জন্য আমি থানায় এসেছি আপনাদের বলতে, আমি মরিনি।’
গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (অপরাধ, দক্ষিণ বিভাগ) এস এম শফিকুল ইসলাম জানান, বুধবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে উত্তরার জসীমউদ্দীন এলাকা থেকে ওই তরুণীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে যাত্রা শুরু হয়। গন্তব্য টঙ্গী হলেও পরে তারা সেখানে না গিয়ে মিরপুরে ওই তরুণীর এক বান্ধবীর বাসায় যান।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ বিভিন্ন তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাদের শনাক্ত করে। তরুণীর বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। পরে তাকে টঙ্গী এলাকায় থাকা তার বোনের জিম্মায় দেওয়া হয়।
পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিতে বড় ধরনের কোনো অপরাধের তথ্য পাওয়া যায়নি। তরুণীর বক্তব্য ও পুলিশের অনুসন্ধানে বিষয়টি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যাকেন্দ্রিক বলেই জানা গেছে।









