বাংলাদেশ

ডোনাল্ড ট্রাম্প-তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানের ছবি: পূর্ণাঙ্গ মাল্টি-স্পেকট্রাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ

ডোনাল্ড ট্রাম্প-তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানের ছবি: পূর্ণাঙ্গ মাল্টি-স্পেকট্রাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ
অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের একটি ছবি নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বা এডিট করা বলে অনেকেই দাবি করেছিলেন। তবে এবার একটি পূর্ণাঙ্গ মাল্টি-স্পেকট্রাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং এআই ডিটেকশন টুলের রিপোর্ট এই সব বিতর্কের বৈজ্ঞানিক অবসান ঘটিয়েছে। প্রদর্শিত ফরেনসিক রিপোর্টে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ছবিটি সম্পূর্ণ আসল এবং এতে কোনো ডিজিটাল কারসাজি নেই।

ফরেনসিক বিশ্লেষণে ছবিটির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তিনটি কারিগরি পরীক্ষা চালানো হয়েছে। রিপোর্টে প্রাপ্ত ডেটার বিস্তারিত পরিসংখ্যান নিচে দেওয়া হলো:

মেট্রিক (Metric) মান (Value) রেফারেন্স / থ্রেশহোল্ড ফলাফল ও ব্যাখ্যা (Status / Interpretation)
বেসলাইন ব্যাকগ্রাউন্ড এরর (μ_bg) ১.৩৯৯ বেসলাইন রেফারেন্স

স্বাভাবিক নিম্ন-ফ্রিকোয়েন্সি কম্প্রেশন নির্দেশ করে।

ব্যাকগ্রাউন্ড এরর স্ট্যান্ডার্ড ডেভিয়েশন (σ_bg) ১.৩৬০ ডিসপারসন রেফারেন্স

কম ভ্যারিয়েন্স, অর্থাৎ পুরো ছবিতে সুষম কম্প্রেশন হয়েছে।

টার্গেট আরওআই এরর (μ_roi) ০.৮১৫ তুলনামূলক বেসলাইন

সন্দেহভাজন অংশে কোনো অতিরিক্ত বা অস্বাভাবিক ত্রুটি নেই।

আরওআই অ্যানোমালি রেশিও (R_anomaly) ০.৫৮৩ >২.৫ (জোড়াতালির নির্দেশক)

পাস: মানটি থ্রেশহোল্ডের অনেক নিচে, যা প্রমাণ করে কোনো ডিজিটাল জোড়াতালি নেই।

গ্লোবাল নয়েজ ভ্যারিয়েন্স (σ²_noise) ১১০.৩৭৫ <৫.০ (অস্বাভাবিক মসৃণ/এআই নির্দেশক)

পাস: ক্যামেরার স্বাভাবিক উচ্চ-ফ্রিকোয়েন্সি নয়েজ বা প্রাকৃতিক দানাদার ভাব সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

 

কারিগরি ব্যাখ্যার বিস্তারিত:

  • এরর লেভেল অ্যানালাইসিস (ELA): ছবিতে আলাদাভাবে কোনো ব্যক্তি বা টেক্সট বসানো হলে সেই নির্দিষ্ট অংশের কম্প্রেশন রেট মূল ব্যাকগ্রাউন্ডের চেয়ে আলাদা হয়, যার ফলে অ্যানোমালি রেশিও ২.৫-এর বেশি দেখায়। কিন্তু এই ছবিতে অনুপাতটি মাত্র ০.৫৮৩, যার অর্থ পুরো ছবিটি একই সময়ে সেভ করা হয়েছে এবং বাইরের কোনো উপাদান এখানে যুক্ত করা হয়নি।

  • টু-ডি এফএফটি (2D FFT): ফ্রিকোয়েন্সি স্পেকট্রামে কোনো অস্বাভাবিক মাইক্রো-গ্রিড বা সমান্তরাল রেখা পাওয়া যায়নি, অর্থাৎ ছবিটিতে সফটওয়্যার-ভিত্তিক জোড়াতালি নেই।

  • হাই-ফ্রিকোয়েন্সি নয়েজ রেসিডিউয়াল: এআই দিয়ে তৈরি ছবিগুলো অস্বাভাবিক রকমের মসৃণ হয় (নয়েজ ভ্যারিয়েন্স ৫.০-এর নিচে)। কিন্তু এই ছবির নয়েজ ভ্যারিয়েন্স ১১০.৩৭৫, যা একটি আসল ক্যামেরার সেন্সরের প্রাকৃতিক নয়েজের প্রমাণ দেয়।

‘ইমেজ হুইস্পার’ (Image Whisper) অ্যানালাইসিস: ফরেনসিক পরীক্ষার পাশাপাশি ‘ইমেজ হুইস্পার’ টুলের বিশ্লেষণেও একই ফলাফল পাওয়া গেছে। ফাইলে প্রদর্শিত ওই টুলটির স্ক্যানিং রিপোর্টে দেখা যায়, ৪টি ভিন্ন ভিন্ন মডেল একমত প্রকাশ করেছে যে ছবিটি এআই-জেনারেটেড নয় (likely not AI-generated)।

মাল্টি-স্পেকট্রাল ফরেনসিক পরীক্ষা এবং ইমেজ হুইস্পার টুলের সম্মিলিত বিশ্লেষণ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে যে, ছবিটির স্পেশাল ইন্টিগ্রিটি সম্পূর্ণ অটুট রয়েছে এবং এটি শতভাগ আসল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো এআই-জেনারেটেড দাবিগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

বিষয়:এআই এআই ডিটেকশন ট্রাম্প-তারেক রহমান তারেক রহমান-ট্রাম্প

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…