রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে দেখা করতে ব্যক্তিগত বুলেটপ্রুফ ট্রেনে করে রাশিয়ায় গিয়েছেন নর্থ কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। দেশ-বিদেশ ভ্রমণের জন্য নৌকা, প্লেন এবং সাঁজোয়া ট্রেনসহ কয়েকটি পরিবহন ব্যবহার করে থাকেন তিনি।
ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে দেশ-বিদেশ ভ্রমণের জন্য কিম জং উনের ব্যবহৃত কয়েকটি পরিবহনের বর্ণনা দিয়েছে।
ধীর গতির ট্রেন
ট্রেনের মাধ্যমে দূরপাল্লায় ভ্রমণের প্রথা কিম জং উনের দাদা কিম ইল সুং শুরু করেন। তার উড়োজাহাজভীতি ছিল। এই বিলাসবহুল ট্রেনগুলোকে কড়া পাহারায় রাখে নিরাপত্তা এজেন্টরা।

২০০৯ সালের একটি স্থানীয় রিপোর্টে বলা হয়, সাঁজোয়া ট্রেনটিতে প্রায় ৯০টি বগি রয়েছে। হলুদ ডোরা কাটা সবুজ যানটিতে কনফারেন্স রুম, দর্শক চেম্বার এবং শয়নকক্ষ আছে। এছাড়াও স্যাটেলাইট ফোন এবং ব্রিফিংয়ের জন্য ফ্ল্যাট-স্ক্রিন টেলিভিশন ব্যবহারের সুবিধা আছে।
ব্যক্তিগত বিমান
ট্রেন ছাড়াও কিমকে অন্যান্য বিলাসবহুল পরিবহন ব্যবহার করতে দেখা যায়। যার মধ্যে আছে তার ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ।

উড়োজাহাজটির বাইরের সাদা অংশের দুই পাশে কোরিয়ান ভাষায় নর্থ কোরিয়ার সরকারি নাম লেখা, লেখার পাশেই আছে নর্থ কোরিয়ার জাতীয় পতাকা। লেজটিতে লাল এবং নীল বৃত্তের ভিতরে একটি লাল তারা রয়েছে।
বিমানটির আধুনিক অভ্যন্তরীণ অংশ রয়েছে। এখানে মিটিং করে থাকেন কিম।
বিলাসবহুল গাড়ি
২০১৮ সালের মার্চ মাসে কিম ট্রেনে করে চীনের রাজধানী বেইজিং ভ্রমণ করেছিলেন। তখন শহরের রাস্তায় ভ্রমণের জন্য তিনি তার ব্যক্তিগত মার্সিডিজ-বেঞ্জ এস-ক্লাস মডেলের গাড়ি ব্যবহার করেছিলেন। ট্রেনে বিশেষভাবে গাড়িটি বহন করা হয়েছিল।২০১০ সালে তৈরি করা গাড়িটির দাম প্রায় ২ বিলিয়ন কোরিয়ান ওয়ান বা প্রায় ২০ কোটি টাকা।
২০১৮ সালের আন্ত-কোরিয়ান শীর্ষ সম্মেলনের সময় ভ্রমণ চলাকালীন প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য কিম একটি ব্যক্তিগত টয়লেট কারও ব্যবহার করেছিলেন।
রহস্যময় ইয়ট
৭ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৭৭ কোটি টাকা মূল্যের এই ইয়টটি কিমের ছিল কিনা বা বিলাস দ্রব্যের উপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এটি আমদানি করা হয়েছিল তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তাকে একাধিকবার এটি ব্যবহার করতে দেখা গেছে।
দামের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়া কিমকেই এই ইয়টের সবচেয়ে সম্ভাব্য মালিক হিসেবে চিহ্নিত করেছে।








