একুশে পদকপ্রাপ্ত, ৬০ এর দশকের অন্যতম প্রধান কবি সদ্য প্রয়াত অসীম সাহার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে জড়ো হয়েছেন সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও সাহিত্যাঙ্গনের বিশিষ্টজনরা। এ উদ্দেশ্যে কবি অসীম সাহার মরদেহ নিয়ে আসা হয়েছে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে।
কবি অসীম সাহার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. দিপু মনি’ও উপস্থিত হয়েছেন।
এর আগে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চিরবিদায় নিয়েছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি অসীম সাহা। মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৫ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
জানা যায়, চলতি বছরের শুরুর দিকেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন কবি অসীম সাহা। চিকিৎসকরা তখন জানিয়েছিলেন, কবি বিষণ্নতায় ভুগছেন। এ ছাড়া পারকিনসন (হাত কাঁপা রোগ), কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়াবেটিসেও ভুগছিলেন তিনি।
১৯৪৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি নেত্রকোনার মামাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন অসীম সাহা। পড়াশোনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, বাংলা সাহিত্যে। সামগ্রিকভাবে সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
পরে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করে।
বিশিষ্ট কবি অসীম সাহা বাংলাদেশের কবিতার ইতিহাসে এক অনন্য নাম। তিনি ছিলেন সমকালীন বাংলা কবিতার তাৎপর্যপূর্ণ কারুকৃৎ।
ব্যক্তিমানুষের আর্তি থেকে সমষ্টিমানুষের আর্তনাদ, মুক্তিকামি মেহনতি মানুষের লড়াকু অভিলাষ এবং শোষণমুক্ত জগৎ গড়ার অঙ্গীকার তার কবিতার ছত্রে ছত্রে স্বতন্ত্র আঙ্গিকশোভায় ভাস্বর হয়েছে। কবিতার পাশাপাশি প্রবন্ধ-গবেষণা, অভিধানচর্চা এবং কাব্যানুবাদেও তিনি বিশিষ্টতার স্বাক্ষর রেখেছেন।







