ইউক্রেনকে দূরপাল্লার টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন সবুজ সংকেত দিয়েছে। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আজ (১ নভেম্বর) শনিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনজন মার্কিন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পেন্টাগনের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইউক্রেনকে টমাহক সরবরাহ করলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুতের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
তবে হোয়াইট হাউসের বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের দেশ রক্ষায় যা প্রয়োজন, তা আমরা অন্যকে দিতে চাই না।” পরে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তিনি জেলেনস্কিকে জানান, “যুক্তরাষ্ট্র আপাতত এই ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করবে না।”
ইউরোপীয় মিত্ররা বলছেন, “পেন্টাগনের ইতিবাচক মূল্যায়নের পর এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘না’ বলার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।” এক ইউরোপীয় কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, “এখন কেবল প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষা।”
এই মূল্যায়ন হোয়াইট হাউসে পাঠানো হয়েছিল অক্টোবর মাসে—প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বৈঠকের ঠিক আগে। জেলেনস্কি দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার ভেতরে তেল ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোয় কার্যকর হামলার সক্ষমতা বাড়াতে এই ক্ষেপণাস্ত্রের দাবি করে আসছেন। প্রায় ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার পাল্লার টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপযোগ্য এবং তা রাশিয়ার গভীরে লক্ষ্যভেদে সক্ষম।
সিএনএন জানায়, বৈঠকের আগের দিন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। পুতিন তাকে সতর্ক করেন যে, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র মস্কো বা সেন্ট পিটার্সবার্গে হামলায় ব্যবহৃত হলে তা রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষতি করবে, যদিও যুদ্ধক্ষেত্রে এর তেমন প্রভাব পড়বে না।
যুক্তরাষ্ট্র যদি সরবরাহে সম্মত হয়, তবে বড় প্রশ্ন রয়ে যায়—ইউক্রেন কীভাবে এগুলো ব্যবহার করবে। সাধারণত টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধজাহাজ বা সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়, কিন্তু ইউক্রেনের নৌবাহিনী বর্তমানে দুর্বল অবস্থায় আছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্থলভিত্তিক উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা (লঞ্চার) ইউক্রেনকে দেওয়া হতে পারে, অথবা ইউক্রেন নিজস্বভাবে ভূমি থেকে উৎক্ষেপণব্যবস্থা তৈরি করবে।
এক ইউরোপীয় কর্মকর্তা বলেন, ইউক্রেনীয় প্রকৌশলীরা ইতিমধ্যেই যুক্তরাজ্যের দেওয়া ‘স্টর্ম শ্যাডো’ ক্ষেপণাস্ত্র সোভিয়েত যুগের বিমান থেকে ছোড়ার ব্যবস্থা করে দেখিয়েছে। টমাহকের ক্ষেত্রেও তারা তা করতে পারবে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, চলতি বছরের শেষ নাগাদ দূরপাল্লার সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ইউক্রেন ন্যায্য শর্তে যুদ্ধের ইতি টানতে পারে। বিশ্বব্যাপী নিষেধাজ্ঞা ও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতার মধ্যে এখন কার্যকর সমন্বয় গড়ে উঠছে। আমরা বছরের শেষ নাগাদ দূরপাল্লার হামলার সব লক্ষ্য অর্জনে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছি।
হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে প্রশাসনের সূত্রগুলো বলেছে, ট্রাম্প এখনো বিষয়টি পুরোপুরি বাতিল করেননি। তিনি নির্দেশ দিলে দ্রুত ইউক্রেনকে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের পরিকল্পনা ইতোমধ্যে প্রস্তুত রয়েছে।







