পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাওয়াজা আসিফ ইসরায়েলকে ‘অশুভ’ ও ‘মানবতার জন্য অভিশাপ’ বলে মন্তব্য করে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনার জন্ম দিয়েছেন। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু-এর কড়া প্রতিক্রিয়ার পর তিনি সামাজিকমাধ্যমের পোস্টটি মুছে ফেলেন।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার ৯ এপ্রিল সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে আসিফ দাবি করেন, ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা চলাকালে লেবাননে গণহত্যা চালানো হচ্ছে। তিনি লেখেন, নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে প্রথমে গাজা, তারপর ইরান, এখন লেবানন রক্তপাত অব্যাহত রয়েছে।
এছাড়া ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠনের সমালোচনা করে তিনি আরও বিতর্কিত মন্তব্য করেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এই মন্তব্যের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল ধ্বংসের আহ্বান অগ্রহণযোগ্য। তার দপ্তর এক্সে জানায়, কোনো সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের বক্তব্য মেনে নেওয়া যায় না, বিশেষ করে যারা নিজেদের শান্তির নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী দাবি করে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সা’আর-ও পাকিস্তানের নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি আসিফের বক্তব্যকে ইহুদিবিদ্বেষী অপপ্রচার আখ্যা দিয়ে বলেন, ইসরায়েলকে ক্যানসারাস বলা কার্যত দেশটির ধ্বংস কামনা করার শামিল। উল্লেখ্য, পাকিস্তান ও ইসরায়েলের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবুও এ ধরনের সরাসরি বাকযুদ্ধ দুই দেশের মধ্যে বিরল।
এর আগে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তীব্র নিন্দা জানায়। এরপরই খাওয়াজা আসিফ সামাজিকমাধ্যমে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। এদিকে, ইসরায়েল পাকিস্তানকে শান্তি আলোচনায় নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বিশ্বাসযোগ্য মনে করে না বলেও জানিয়েছে দেশটির কূটনৈতিক মহল।
গত ২ মার্চ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে লেবানন জড়িয়ে পড়ে, যখন ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি শহরগুলোর দিকে রকেট নিক্ষেপ করে। এরপর বুধবার লেবাননে ইসরায়েলের ব্যাপক হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হয়, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে।
নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে সাময়িক হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেও এই যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন নেই। এতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। শেহবাজ শরিফ দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি সব জায়গায় প্রযোজ্য, লেবাননসহ। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট করেন, লেবানন এই চুক্তির অংশ নয়।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ না হলে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক স্থগিত করতে পারে তেহরান। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছিল।
পাকিস্তান জানিয়েছিল, ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, যা পরে একদিন পিছিয়ে দেওয়া হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে নতুন করে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।







