পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, ভারত সঠিক পথে ফিরে না এলে পাকিস্তান সরাসরি জবাব দিতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, পাকিস্তানের পানির প্রতিটি ফোঁটাকে রেড লাইন বা চূড়ান্ত সীমারেখা হিসেবে উল্লেখ করে ভারতকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি।
সংবাদমাধ্যম দ্যা টাইমস অফ ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে রাজধানী ইসলামাবাদে ‘ইয়াদগার-ই-ফাতাহ’ বা বিজয় স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এ হুঁশিয়ারি দেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।
দেশাত্মবোধ ও জাতীয় উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে স্মৃতিস্তম্ভটির উদ্বোধন করা হয়। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সামরিক বাহিনীর প্রধান (সিডিএফ) ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির যৌথভাবে এর উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে শেহবাজ শরিফ বলেন, ‘ইয়াদগার-ই-ফাতাহ’ পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক। ‘মারকা-ই-হক’ সামরিক অভিযানে সাফল্যের জন্য ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও তাঁর সহকর্মীদের অভিনন্দন জানান তিনি। মাত্র আট মাসে স্মৃতিস্তম্ভটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে বলেও জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।
ভারতের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে শেহবাজ শরিফ বলেন, পাকিস্তান এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তবে তাদের শান্তির আকাঙ্ক্ষাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর সাফল্যে পুরো জাতি গর্বিত। সামরিক বাহিনীর বীরত্বের প্রশংসা করে তিনি দাবি করেন, প্রতিপক্ষকে অত্যন্ত লজ্জাজনক পরাজয়ের মুখে পড়তে হয়েছে।
পানির প্রসঙ্গে শেহবাজ শরিফ বলেন, পাকিস্তানের পানির প্রতিটি ফোঁটা তাদের জন্য ‘রেড লাইন’। ভারতকে সতর্ক করে তিনি বলেন, নয়াদিল্লি সঠিক পথে ফিরে না এলে পাকিস্তান সরাসরি জবাব দেবে।
ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে শেহবাজ বলেন, নতুন কোনো সংঘাত এড়াতে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এ ছাড়া পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। আগামী দিনে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার আশাবাদও প্রকাশ করেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে তুরস্কের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি তুলে ধরেন শেহবাজ। একই সঙ্গে আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালিত না হয়, সে বিষয়ে কাবুল প্রশাসনকে সতর্ক করেন তিনি।
কাশ্মীর ও ফিলিস্তিন ইস্যুতেও পাকিস্তানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন শেহবাজ শরিফ। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে পাকিস্তানের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। একইভাবে কাশ্মীরিদের আত্মত্যাগও বৃথা যাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে শেহবাজ বলেন, ঐক্যবদ্ধ জাতিকে কোনো পরাশক্তিই পরাজিত করতে পারে না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য যেন শত্রুতায় পরিণত না হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা, বিদেশি কূটনীতিক, সিনেট চেয়ারম্যান ও জাতীয় পরিষদের স্পিকার উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া পাকিস্তানের সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রদেশের পুলিশ এবং আজাদ কাশ্মীর ও গিলগিট-বালতিস্তানের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
পাকিস্তানের দাবি, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে সংঘাতে বিজয়ের স্মৃতি ধরে রাখতেই ‘ইয়াদগার-ই-ফাতাহ’ নির্মাণ করা হয়েছে।
পাকিস্তানের সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, জম্মু ও কাশ্মীরে একটি হামলার পর ৬ ও ৭ মে ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তানে হামলা চালায়। এর জবাবে পাকিস্তান পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ৮০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত ১০ মে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে থামে বলে দাবি ইসলামাবাদের।
পাকিস্তানের দাবি, ওই সংঘাতে ফ্রান্সের তৈরি রাফালসহ ভারতের আটটি যুদ্ধবিমান এবং বেশ কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছিল। তবে সংঘাতের ঘটনা ও উভয় পক্ষের সামরিক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।








