যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারে বড় অগ্রগতি দেখিয়েছে পাকিস্তান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চুক্তির ধারাবাহিকতায় এবার ৫০ কোটি ডলারের একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে ইসলামাবাদ। চুক্তিটি সই হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক খনিজ কোম্পানি ইউএস স্ট্র্যাটেজিক মেটালসের (ইউএসএসএম) সঙ্গে।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত পাকিস্তানের দৈনিক ডন জানিয়েছে, মিজৌরি-ভিত্তিক ইউএসএসএম মূলত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সংগ্রহ, পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ও খনন কার্যক্রমে নিয়োজিত। কোম্পানিটি পুরনো লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি থেকে ধাতু উদ্ধার ছাড়াও কোবাল্ট, নিকেল ও তামার খনিতে দক্ষ।
পাকিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ইউএসএসএম প্রতিনিধি দলকে নিয়ে ফ্রন্টিয়ার ওয়ার্কস অর্গানাইজেশনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে এই চুক্তি সই করেন ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি চিফ অব মিশন জ্যাক হারকেনরাইডার।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মার্কিন শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স নাটালি বেকার বলেন, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দৃঢ়তা প্রমাণ করে। দুই দেশই এর সুফল ভোগ করবে। ট্রাম্প প্রশাসন এই ধরনের কৌশলগত খনিজসম্পদ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইউএসএসএম প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের খনিজ খাত, অবকাঠামো উন্নয়ন ও মূল্য সংযোজনের সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো পর্যবেক্ষণে এসেছে। তারা প্রধানমন্ত্রী, সেনাপ্রধান, জ্বালানি ও বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকও করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ (বিশেষ করে রেয়ার আর্থ উপাদান) উন্নয়ন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে এবং অন্যটি লজিস্টিকস খাতে। দ্বিতীয় এমওইউটি স্বাক্ষর হয় পাকিস্তানের ন্যাশনাল লজিস্টিকস করপোরেশন এবং আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানি মোটা-এঞ্জিল গ্রুপের মধ্যে।
মোটা-এঞ্জিল পাকিস্তানে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যাতে প্রযুক্তি স্থানান্তর, কর্মসংস্থান এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়।
ডন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তির আওতায় পাকিস্তান থেকে অচিরেই অ্যান্টিমনি, তামা, স্বর্ণ, টাংস্টেন ও রেয়ার আর্থ উপাদান রপ্তানি শুরু হতে পারে।
চুক্তির প্রাথমিক ধাপে ইউএসএসএম পাকিস্তানের খনিজ খাতে প্রায় ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে বলে জানায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে পাকিস্তান। গত জুলাইয়ে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তানি পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক ২৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামানো হয়। তখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, পাকিস্তানকে তেলসম্পদ উন্নয়নে সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র।








