বিশ্বকাপের শুরুটা দারুণ হয়েছিল পাকিস্তানের। প্রথম দুই ম্যাচে বড় জয়ে পেয়েছিল নেদারল্যান্ডস ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। এরপরই ছন্দপতন। টানা দুই ম্যাচে হেরেছে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। এবার নিজেদের পঞ্চম ম্যাচেও আফগানিস্তানের বিপক্ষে পরাজয় দেখল বাবর আজমের দল।
চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরাম স্টেডিয়ামে রেকর্ড গড়ে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে আফগানিস্তান। আসরে আফগানদের দ্বিতীয় জয় এটি। এর আগে ইংল্যান্ডকেও হারায় তারা।
ওয়ানডেতে আফগানদের সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড এটি। এর আগে ২০১৪ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ২৭৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় জিতেছিল তারা। পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি টি-টোয়েন্টি জিতলেও ওয়ানডে সংস্করণে আফগানদের প্রথম জয় এটি। দুই দলের আগের সাত ম্যাচে জিতেছিল পাকিস্তান।
নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে টসে জিতে আগে ব্যাটের সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম। আবদুল্লাহ শফিক ও বাবরের ফিফটিতে নির্ধারিত ওভার শেষে ৭ উইকেটে ২৮২ রানের সংগ্রহ পায় পাকিস্তান। জবাবে নেমে টপঅর্ডারদের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৪৯ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য তাড়া করে আফগানিস্তান।
পাকিস্তানের দেয়া লক্ষ্য তাড়ায় নেমে দুর্দান্ত শুরু পায় আফগানরা। দুই ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরান ১৩০ রানের জুটি গড়েন। ২১.১ ওভারে গুরবাজকে ফেরান শাহিন শাহ আফ্রিদি। ৫৩ বলে ৬৫ রান করেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার।
দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৬০ রান তোলেন ইব্রাহিম জাদরান ও রহমত শাহ। ৩৩.৩ ওভারে জাদরানকে ফেরান হাসান আলী। ১১৩ বলে ৮৭ রান করেন তিনি।
এরপর হাশমতউল্লাহ শহিদীকে নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন রহমত শাহ। ৮৪ বলে ৭৭ রানে অপরাজিত ছিলেন রহমত, শহিদী অপরাজিত ছিলেন ৪৫ বলে ৪৮ রানে।
পাকিস্তানের হয়ে একটি করে উইকেট নেন শাহিন শাহ আফ্রিদি ও হাসান আলী।
এর আগে ব্যাটে নেমে শুরুটা ভালোই পেয়েছিল পাকিস্তান। দুই ওপেনার আবদুল্লাহ শফিক ও ইমাম উল হক তুলেছেন ৫৬ রান। ১১তম ওভারের প্রথম বলে ইমামকে ফেরান আজমতউল্লাহ ওমরজাই। ২২ বলে ১৭ রান করেন এই ওপেনার। ২২.৩ ওভারে শফিককে ফেরান নুর আহমেদ। ৭৫ বলে ৫৮ রান করেন শফিক।
এক ওভার পরেই ফের আঘাত হানেন নুর। ফেরান ইনফর্ম ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানকে। ১০ বলে ৮ রান করেন রিজওয়ান। ১২০ রানে তিন ব্যাটারকে হারিয়ে রান তোলার গতি কমে যায় পাকিস্তানের। ৩৪তম ওভারের শেষ বলে ৩৪ বলে ২৫ রান করা সৌদ শাকিলকে ফেরান মোহম্মদ নবী।
এক প্রান্ত আগলে রাখা বাবর আজমকে নিজের তৃতীয় শিকার বানান নুর। ৪১তম ওভারের পঞ্চম বলে দলীয় ২০৬ রানে নবীর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান বাবর। ৯২ বলে ৭৪ রান তোলেন পাকিস্তান অধিনায়ক।
ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে শাদাব খানকে সঙ্গী করে ব্যাটে ঝড় তোলেন ইফতিখার আহমেদ। চার-ছক্কার ফুলঝুরিতে এই জুটিতে সংগ্রহ করেন ৭৩ রান। ইনিংস শেষের চারবল বাকী থাকতে নাভিন উল হকের শিকার হন ইফতিখার। চারটি ছক্কা ও দুটি চারে ২৭ বলে ৪০ রানে ফেরেন এই অলরাউন্ডার।
এরপর ইনিংসের শেষ বলে লংঅনে উড়িয়ে মারতে গিয়ে নবীর হাতে ক্যাচ দেন শাদাব। ৩৮ বলে ৪০ রান করেন তিনি। শাহিন তিন বলে ৩ রানে অপরাজিত ছিলেন।
আফগানিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নিয়েছেন নুর আহমেদ। নাভিন উল হক নেন দুটি। এছাড়া মোহাম্মদ নবী ও আজমতুল্লাহ ওমরজাই নেন একটি করে উইকেট।








