পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে ৬ ফুটবলারকে জঙ্গিরা অপহরণ করেছে। দেশটির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি সোমবার বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছেন। নিরাপত্তা বাহিনী অপহৃত ফুটবলারদের উদ্ধারে কাজ করছে।
স্থানীয় এক কর্মকর্তার তথ্যমতে, ১৭ থেকে ২০ বছর বর্ষী ফুটবলাররা গত শনিবার একটি টুর্নামেন্টে খেলতে যাওয়ার পথে বেলুচিস্তান প্রদেশের ডেরা বুগতি জেলার সুই শহরের গ্যাসফিল্ড অঞ্চলে অপহৃত হন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনরা জানিয়েছেন, তরুণ ফুটবলারদের ১৬ সদস্যের শক্তিশালী স্কোয়াড রয়েছে। টুর্নামেন্টে খেলতে যাওয়ার পথে তাদের গাড়ি বন্দুকের মুখে থামানো হয়। ১৬ খেলোয়াড়ের মধ্যে কয়েকজনকে বেছে বেছে করা হয় অপহরণ।
২০ বর্ষী খেলোয়াড় আমির হোসেনের বাবা জাকির হোসেন গণমাধ্যমে বলেছেন, ‘আমাদের পরিবার একেবারেই মুষড়ে পড়েছে। তাকে অপহরণের পর থেকে আমরা তার দিক থেকে কোনো সাড়া পাইনি। অপহরণকারীরা আমাদের সাথে যোগাযোগ করেনি। যদিও সে একজন ব্যতিক্রমী ফুটবলার। সে নির্দোষ। ফুটবল খেলা কোনো অপরাধ নয়।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি বিবৃতিতে বলেছেন, ‘অপহরণ যেখান থেকে হয়েছে সেই এলাকাটি পুরোপুরি ঘেরাও করা হয়েছে। জিম্মিদের উদ্ধারের জন্য সকল পন্থা ব্যবহার করা হচ্ছে।’
বুগতির অভিযোগ, অপহরণকারীরা বেলুচ রিপাবলিকান আর্মির অন্তর্গত একটি জঙ্গি গোষ্ঠী। তারা বেলুচিস্তানের বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসনের জন্য লড়াই করছে। বলেছেন, এটা খুবই গুরুতর বিষয় যে আমাদের ছয় শিশু সন্ত্রাসীদের জিম্মায় রয়েছে।
এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘খেলোয়াড়রা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সাথে জড়িত ছিল। সম্প্রতি তারা নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল।’
বেলুচিস্তান প্রদেশটি প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও সেখানকার জনগণ দারিদ্রতার মাঝে বাস করে। দীর্ঘদিন ধরে বেলুচ জনগণ অভিযোগ করে আসছে, তারা প্রদেশের লাভের ন্যায্য অংশ পায় না। যার প্রেক্ষিতে এক ডজনেরও বেশি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর জন্ম হয়েছে সেখানে।








