লুইজিয়ানা’র রাস্টনে বর্ণিল আয়োজনে পহেলা বৈশাখ

“যেখানেই থাকি না কেন, আমরা আমাদের বাঙালি ঐতিহ্যকে ভুলতে চাই না”— এই চেতনাকে ধারণ করে সুদূর আমেরিকার লুইজিয়ানায় অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হলো বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। গত ১১ এপ্রিল লুইজিয়ানার রাস্টন শহরের আর. এল. কুক পার্কে এক জমকালো বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মূলত পহেলা বৈশাখ ১৪ এপ্রিল হলেও, সবার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ১১ এপ্রিল এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
লুইজিয়ানা টেক ইউনিভার্সিটির ‘স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ -এর উদ্যোগে আয়োজিত এই মিলনমেলায় বিশ্ববিদ্যালয়টির বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং তাদের পরিবারসহ ৭০ জনেরও বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া আশেপাশের এলাকা থেকেও অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সপরিবারে এই উৎসবে যোগ দেন।

বাঙালি সংস্কৃতির ছোঁয়া দিয়ে পার্কের নির্দিষ্ট স্থানটিকে বিভিন্ন দেশীয় শিল্পকর্ম ও আলপনার মাধ্যমে চমৎকারভাবে সাজানো হয়। উপস্থিত সকলের পরনে ছিল ঐতিহ্যবাহী পোশাক; ছেলেদের পাঞ্জাবি এবং মেয়েদের বর্ণিল শাড়িতে বিদেশের মাটিতে যেন একখণ্ড বাংলাদেশ ফুটে উঠেছিল।
উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল দেশীয় খাবারের বিশাল আয়োজন। দিনের শুরুতে সবাইকে পরিবেশন করা হয় বাঙালির চিরচেনা পান্তা-ইলিশ এবং হরেক রকমের সুস্বাদু ভর্তা। এছাড়া মিষ্টিমুখের জন্য ছিল রসগোল্লাসহ নানা ধরনের মিষ্টান্ন ও ঐতিহ্যবাহী পিঠা-পুলি, যা প্রবাসীদের মনে দেশের স্মৃতিকে নতুন করে জাগিয়ে তোলে।


দিনব্যাপী এই আয়োজনে বয়সভিত্তিক নানা ধরনের মজাদার খেলাধুলা ও জমকালো সাংস্কৃতিক পর্বের আয়োজন করা হয়। ঐতিহ্যবাহী বালিশ খেলাসহ নানন খেলা, এবং লটারির পাশাপাশি ছিল গান, নাচ ও কবিতা আবৃত্তির মনমুগ্ধকর পরিবেশনা। শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বিশেষ করে আমেরিকায় জন্মগ্রহণকারী ও বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোররা এই দেশীয় উৎসবটি দারুণভাবে উপভোগ করে, যা আয়োজনের অন্যতম একটি সার্থকতা।
পুরো অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরে আনন্দ ও গর্ব প্রকাশ করেছেন স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর প্রেসিডেন্ট মো. শাহ জালাল মজুমদার এবং তার কার্যকরী দল। তারা জানান, হাজার মাইল দূরে থাকলেও নতুন প্রজন্ম যেন তাদের শেকড় এবং হাজার বছরের সমৃদ্ধ বাঙালি সংস্কৃতিকে ভুলে না যায়, সেই উদ্দেশ্যেই তাদের এই প্রয়াস।
প্রবাসের মাটিতে দেশীয় আমেজে আয়োজিত এই বৈশাখী উৎসব শুধু প্রবাসীদের আনন্দই দেয়নি, বরং সবার মাঝে এক গভীর ভাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করেছে।






