বাংলাদেশ

পদ্মা সেতুতে দাঁড়িয়ে বিমান বাহিনীর ডিসপ্লে উপভোগ করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য অতিথিরা পদ্মা সেতুতে দাঁড়িয়ে বিমানের ডিসপ্লে উপভোগ করছেন. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

প্রধানমন্ত্রীসহ অতিথিরা পদ্মা সেতুতে দাঁড়িয়ে বিমানের ডিসপ্লে উপভোগ করছেন, যা বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রতীক।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

পদ্মা সেতুতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর মনোজ্ঞ স্মোক পাস ডিসপ্লে উপভোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় তার সঙ্গে মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে উপস্থিত থেকে বিমান বাহিনীর ডিসপ্লে ক্যামেরাবন্দী করতে দেখা যায়।

বিমান বাহিনীর ১০টি হেলিকাপ্টার এবং ৩১টি যুদ্ধ জাহাজ তাদের মনোজ্ঞ ডিসপ্লে প্রদর্শন করে।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যানবাহন চলাচলের জন্য বহুল প্রত্যাশিত ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু উদ্বোধন করতে গিয়ে নিজ হাতে টোল পরিশোধ করেন।

শনিবার বেলা ১১টা ১২ মিনিটে মাওয়ায় স্থাপিত টোল প্লাজায় টোল পরিশোধের পর উদ্বোধনী ফলক ও ম্যুরাল-১ উন্মোচনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। পরে সেখানে মোনাজাতে অংশ নেন সরকারপ্রধান।

শুরুতে পদ্মা সেতু উদ্বোধনে আয়োজিত সুধী সমাবেশস্থলে পৌঁছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারে করে সেখানে পৌঁছান তিনি।

সকাল ৯টা ৪৫মিনিতে রাজধানীর পুরাতন বিমানবন্দর থেকে পদ্মার মাওয়া প্রান্তের উদ্দেশে ছেড়ে যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি।

সুধী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, বিভিন্ন বাহিনীর প্রধান, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা।

সেখানেই বেলা ১১টায় স্মারক ডাকটিকিট, স্যুভেনির শিট, উদ্বোধনী খাম এবং বিশেষ সিলমোহর উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।

বেলা ১১টা ২৩ মিনিটে মাওয়া প্রান্ত থেকে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তের উদ্দেশে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর পৌনে ১২টায় জাজিরা পয়েন্টে পৌঁছে সেতু ও ম্যুরাল-২ এর উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করবেন। সেখানে মোনাজাতেও যোগ দেবেন তিনি।

দুপুর ১২টায় মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়িতে সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত দলের জনসভায় যোগ দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বিকেল সাড়ে ৫টায় হেলিকপ্টারে জাজিরা পয়েন্ট থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবেন।

২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সেতুর নির্মাণ কাজে ৩৭ এবং ৩৮ নম্বর পিলারে প্রথম স্প্যান বসানোর মাধ্যমে পদ্মা সেতুর অংশ দৃশ্যমান হয়।

পরে একের পর এক ৪২টি পিলারের ওপর বসানো হয় ৪১টি স্প্যান। ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর শেষ ৪১তম স্প্যান স্থাপনের মাধ্যমে বহুমুখী ৬.১৫ কিলোমিটার পদ্মা সেতুর সম্পূর্ণ কাঠামো দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

প্রকল্পের বিবরণ অনুযায়ী, মূল সেতু নির্মাণের কাজটি করেছে চীনের ঠিকাদার কোম্পানি চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) এবং নদী শাসন করেছে চীনের সিনো হাইড্রো কর্পোরেশন। মোট ৩০, ১৯৩৩.৭ কোটি টাকা ব্যয়ে স্ব-অর্থায়নে সেতু প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে।

মূল সেতু নির্মাণের ব্যয় ১২,১৩৩.৩৯ কোটি টাকা (৪০০ কেভি ট্রান্সমিশন লাইন টাওয়ার এবং গ্যাস লাইনের জন্য ১০০০ কোটি টাকা সহ) এবং ১৩.৮ কিলোমিটার নদী শাসন কাজের ব্যয় ৯,৪০০০.০ কোটি টাকা।

টোল প্লাজা এবং এসএ-২ সহ ১২ কিমি অ্যাপ্রোচ রোডের নির্মাণ ব্যয় ১,৯০৭.৬৮ কোটি টাকা (২টি টোল প্লাজা, ২টি থানা ভবন এবং ৩টি পরিষেবা এলাকা সহ) যেখানে পুনর্বাসনের ব্যয় ১,৫১৫.০০ কোটি টাকা, ২৬৯৩.২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় ব্যয় ১২৯০.৩ কোটি টাকা, কনসালটেন্সি ৬৭৮৩.৭ কোটি টাকা এবং অন্যান্য (বেতন, পরিবহন, সিডি ভ্যাট এবং ট্যাক্স, ফিজিক্যাল এবং প্রাইস কন্টিনজেন্সি, ইন্টারেস্ট ইত্যাদি) ১,৭৩১.১৭ টাকা।

শরীয়তপুরের জাজিরা পয়েন্টে পদ্মা সেতুর প্রথম স্প্যান বসানো হয় ২০১৭ সালের ৭ অক্টোবর। ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর শরীয়তপুর জেলার জাজিরা পয়েন্টে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী নদী প্রশিক্ষণের কাজ এবং পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের মূল নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।

বিষয়:Padma Bridge Prime Minister Sheikh Hasina পদ্মা সেতু পদ্মার খবর পদ্মাসেতু

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…