বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলোচিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে সরকারের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ১৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুমোদনের পর দুপুরে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর এই ভাষণেই প্রকাশ পাবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের রূপরেখা।
সরকারি সূত্র জানায়, তার ভাষণে গণভোটের সময়, প্রশ্নের ধরন এবং সংসদের উচ্চকক্ষের কাঠামো সম্পর্কে দিকনির্দেশনা থাকবে। এরপর সরকার আদেশ ও অধ্যাদেশ জারি করবে।
জানা গেছে, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত। গণভোটের প্রশ্ন সহজ ও স্পষ্ট রাখার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে জনগণ সহজে মত দিতে পারে। পাশাপাশি সংসদের উচ্চকক্ষ সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে গঠনের প্রস্তাবও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।
১২ নভেম্বর বুধবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর বাসভবন যমুনায় কয়েকজন উপদেষ্টাকে নিয়ে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেন। সেখানে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সর্বশেষ অবস্থা ও রাজনৈতিক দলের মতামত নিয়ে আলোচনা হয়। আজকের বৈঠকে তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে এবং পরে জাতির উদ্দেশে ভাষণে তা ঘোষণা করা হবে।
এর আগে ২৮ অক্টোবর জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ জমা দেয়। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভেদ থাকায় সরকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
বিএনপি একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট চায়, কিন্তু উচ্চকক্ষের পিআর পদ্ধতির বিরোধী। বিপরীতে জামায়াত ও সমমনা আট দল নির্বাচনের আগে গণভোট এবং পিআর পদ্ধতির পক্ষে। তারা ১৪ নভেম্বর দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
সরকার আশা করছে, আজকের সিদ্ধান্ত ও প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের পর রাজনৈতিক দলগুলো ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাবে।







