বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, মোবাইল ব্যাংকিং ও মোবাইল কোম্পানিতে কর্মরত চাকরিজীবি এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা অনলাইনে জুয়া পরিচালনা করছে। আগ্রহী ব্যক্তিদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
গতকাল সোমবার ২৩ অক্টোবর রাতে গাজীপুরের শ্রীপুর ও রাজধানীর মালিবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দেশের বাহির থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার সাইটের কার্যক্রম দেশে পরিচালনার মাধ্যমে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া একটি চক্রের মুলহোতাসহ চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র্যাব সদর দপ্তর গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-১ এবং র্যাব-১১ এর যৌথ টিম।
চক্রের গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন- মূলহোতা মো. নিশাত মুন্না (২০), মো. কামরুল ইসলাম শুভ (২৭), মো. সুমন (৩৫), মো. নাজমুল হোসেন বাবু (৩১)। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ১৬টি মোবাইল ফোন, ১৮টি সিম কার্ড, ১টি সিপিইউ, ১টি মনিটর উদ্ধার করা হয়।
খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেপ্তার নিশাত মুন্না বিভিন্ন অনলাইন বেটিং সাইটের দেশীয় কার্যক্রম পরিচালনার অন্যতম মূলহোতা। সে জানায়, অনলাইনে তার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে বেটিং সাইটের প্রসারের জন্য ভিডিও বানাতে তাকে দেশের বাইরে থেকে বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার প্লাটফর্ম থেকে প্রস্তাব দেয়া হয়। পরে সে অধিক অর্থ লাভের আশায় বিভিন্ন বেটিং সাইটের প্রচার ও অন্যান্য কার্যক্রমের সাথে জড়িত হয়। সে তার ইউটিউব চ্যানেল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার তৈরি ভিডিওতে বিভিন্ন অনলাইন জুয়া সাইটের বিজ্ঞাপন প্রচার করতো। সে তার প্রতিটি ভিডিওতে বেটিং সাইটের বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য ১০ হাজার টাকা করে গ্রহণ করতো বলে জানায়। পরে সে নিজেও অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম শুরু করে। ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জুয়ার বিজ্ঞাপন দেখে আগ্রহী ব্যক্তি তার সাথে যোগাযোগ করলে সে তাদেরকে অনলাইনে বিভিন্ন জুয়ার সাইটে একাউন্ট খুলে দেয়ার বিষয়ে গ্রেপ্তার কামরুলের কাছে পাঠাতো।
কমান্ডার মঈন বলেন: কামরুল স্নাতক শেষ করে একটি মোবাইল কোম্পানির সেলস রিপ্রেসেন্টেটিভ হিসেবে কাজ করত। বিগত দেড় বছর আগে থেকেই নিশাতের সাথে তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় হয়। সে নিশাতের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার সাথে জড়িত হয়। সে স্বল্প সময়ে অধিক অর্থ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন পরিচিত লোকদের অনলাইন জুয়ার সাইটে একাউন্ট খুলতে উদ্বুদ্ধ করতো এবং আগ্রহী ব্যক্তিদের অনলাইন জুয়ার বিভিন্ন সাইটে অ্যাকাউন্ট খুলে দিতো। সে প্রতিটি একাউন্ট খুলার জন্য ৩০০ টাকা কমিশন পায় বলে জানা যায়।
সুমন অনলাইন জুয়ার অর্থ লেনদেনের সাথে জড়িত ছিল। সে রাজধানীর মালিবাগে স্টেশনারী ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যবসা করত। মোবাইল ব্যাংকিং এর ব্যবসার সুবাধে কামরুলের সাথে তার পরিচয় হয়। পরে কামরুল তাকে স্বল্প সময়ে অধিক অর্থ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন বেটিং সাইটের একাউন্ট খুলে দেয় এবং তার মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জুয়ার সকল টাকা লেনদেন করার জন্য উদ্বুদ্ধ করে। সুমন পরিচয় গোপন করে অনলাইন জুয়ার আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করার জন্য সে কৌশলে তার পাশের একজন মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসায়ীর নামে নিবন্ধনকৃত সিম সংগ্রহ করে, যাতে বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং এর মার্চেন্ট একাউন্ট হিসেবে লেনদেন করা যেত। পরে সে বিভিন্ন অনলাইন বেটিং সাইটের সকল প্রকার লেনদেন ঐ মোবাইল সিমটি দ্বারা নিবন্ধনকৃত মার্চেন্ট একাউন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন করতো।
এছাড়াও সে নামে বেনামে বিভিন্ন সিম সংগ্রহ করে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার অর্থ লেনদেন করতো বলে জানা যায়। গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থ সে নিশাত মুন্না ও কামরুল এর সহায়তায় হুন্ডির মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী দেশে অনলাইন জুয়ার প্লাটফর্ম পরিচালনাকারীর নিকট পাঠাতো বলে জানা যায়।
নাজমুল নোয়াখালীতে থাই গ্লাস ব্যবসা এবং মোবাইল ব্যাংকিং এর ব্যবসা করতো। সে ১ বছর আগে কামরুলের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার আর্থিক লেনদেনের সাথে জড়িত হয়। সে নোয়াখালী অঞ্চলে বেটিং সাইটের জন্য গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় অর্থ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নিত। সে বেটিং সাইটে টাকা রিচার্জ/বেটিং সাইট থেকে টাকা উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনা করতো। এছাড়াও সে নামে বেনামে বিভিন্ন সিম সংগ্রহ করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার অর্থ লেনদেন করতো বলে জানা যায়। সে কামরুল ও নিশাত মুন্নার সহায়তায় গ্রাহকদের থেকে প্রাপ্ত অর্থ পার্শ্ববর্তী দেশে অনলাইন জুয়ার প্লাটফর্ম পরিচালনাকারীর কাছে পাঠানোর সাথে জড়িত ছিল।








