রাঙামাটির কাউখালীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক দুই দলের মধ্যে গোলাগুলিতে একজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও চারজন।
গতকাল বুধবার ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যার দিকে কাউখালী ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দুর্গম রইশ্যাবিলি নামক এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। তবে নিহত ও আহতের নাম পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, গোলাগুলির ঘটনায় একজন নিহত ও চারজন আহত হওয়ার সংবাদ পেয়েছি।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) ও প্রসীত গ্রুপ ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)’র সশস্ত্র দু’গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)’র নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বেশ কিছুদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি সন্তু লারমার দল সেটি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছিল। ধরণা করা হচ্ছে, এলাকার আধিপত্যকে কেন্দ্র করে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়রা আরও জানায়, গোলাগুলির সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি।
সংশ্লিষ্ট সুত্র ও স্থানীয়রা জানান, কাউখালী ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা মিতিঙ্গাছড়ি ও রইস্যাবিলী এলাকাটি ইউপিডিএফ’র প্রসীতপন্থি গ্রুপের দখলে ছিলো। গত এক সপ্তাহ যাবত উক্ত এলাকাটি জেএসএস’র একটি গ্রুপ দখলে নিতে উক্ত এলাকায় অবস্থান করে। পিসিজেএসএস’র একটি গ্রুপ উক্ত এলাকায় অবস্থান করার বিষয়ে ইউপিডিএফ’র অঙ্গ-সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র জনতার সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি ও কাউখালীর ফটিকছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উষাতন চাকমা গত ২৩ নভেম্বর সংবাদ সন্মেলন করে ঘাগড়া, মিতিঙ্গাছড়ি ও রইস্যাবিলি এলাকায় ৩৫/৪০ জনের সশস্ত্র একটি গ্রুপ অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে আতংক দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলন করার তিনদিন পর গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সন্ধ্যার সময় উভয় পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে গোলাগুলির ঘটনায় স্থানীয়রা দিগ্বিদিক ছুটতে থাকে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।







