আন্তর্জাতিক

জলবায়ু পরিবর্তনের দায়ে এক দেশ অন্য দেশের বিরুদ্ধে করতে পারবে মামলা

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সৈকত ও উপকূলীয় এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

সৈকত ও উপকূলীয় এলাকা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত, সৈকত পরিষ্কার ও পুনরুদ্ধার কাজ চলছে।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

জলবায়ু পরিবর্তনের দায়ে এক দেশের বিরুদ্ধে এখন থেকে মামলা করতে পারবে অন্য দেশ। এই যুগান্তকারী রায় দিয়েছে জাতিসংঘের একটি শীর্ষ আদালত। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কোনো অংশ, কে ঘটিয়েছে তা সমাধান করা কঠিন হতে পারে বলে মত দিয়েছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই রায় বাধ্যতামূলক না হলেও এর ব্যাপক পরিণতি হতে পারে বলেই মনে করেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য এই রায়কে এক ধরনের বিজয় হিসেবে দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে ওই সব দেশ যারা এই সমস্যা মোকাবিলায় বিশ্বব্যাপী ধীর অগ্রগতির কারণে হতাশ হয়ে আদালতে এসেছিল।

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে এই অভূতপূর্ব মামলার বিষয়টি ২০১৯ সালে আলোচনায় এসেছিল। যখন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতির মুখে থাকা নিম্ন প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের একদল তরুণ আইনের শিক্ষার্থী এই ধারণাটি সামনে আনেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই মতামত আইসিজের বাইরে জাতীয় আদালতেও আগামী সপ্তাহের প্রথম দিক থেকেই ব্যবহার করা যেতে পারে।

জলবায়ুকর্মী এবং আইনজীবীরা আশা করছেন, এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত সেই দেশগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের পথ সহজ করবে যারা সবচেয়ে বেশি জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর মাধ্যমে বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য ঐতিহাসিকভাবে দায়ী।

বাড়তে থাকা সমস্যা মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলো যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা রক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছিল তারা। যে হতাশা থেকে অনেক দরিদ্র দেশও এই মামলাটি সমর্থন করেছিল। যদিও এ বিষয়ে কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা আরোপ করা উচিত হবে না বলে আগেই বলেছিল যুক্তরাজ্যসহ উন্নত দেশগুলো। এক্ষেত্রে তাদের যুক্তি ছিল, এই সমস্যা মোকাবিলায় ২০১৫ সালে জাতিসংঘের প্যারিস চুক্তিসহ বিদ্যমান জলবায়ু চুক্তিগুলোই যথেষ্ট। উন্নত দেশগুলোর এই যুক্তি বুধবার খারিজ করে দেন আদালত।

বিচারক ইওয়াসাওয়া ইউজি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যদি দেশগুলো সম্ভাব্য সর্বোচ্চ উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা তৈরি না করে, তাহলে এটি প্যারিস চুক্তিতে তাদের প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।

তিনি আরও বলেন, এই মতামত বৃহত্তর আন্তর্জাতিক আইন হিসেবে প্রযোজ্য হবে। যার অর্থ হলো, যে দেশগুলো প্যারিস চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি অথবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো ত্যাগ করতে চায়, তাদেরও জলবায়ু ব্যবস্থাপনাসহ পরিবেশ রক্ষায় কাজ করতে হবে।

“এই রায়কে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি মুহূর্ত” হিসেবে উল্লেখ করেছেন সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল এনভায়রনমেন্টাল ল বা সিআইইএল এর সিনিয়র অ্যাটর্নি জোই চৌধুরী।

তিনি বলেন, “এই ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত স্বাভাবিক আচরণের বাইরে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিশ্চিত করেছে। জলবায়ু বিপর্যয়ের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের এর প্রতিকার পাওয়ার অধিকার রয়েছে, যার মধ্যে ক্ষতিপূরণও অন্তর্ভুক্ত।”

ভানুয়াতু এবং মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের প্রতিনিধিত্বকারী ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার্সের ব্যারিস্টার জেনিফার রবিনসন বলছেন, “জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা রাষ্ট্রগুলোর জন্য এটি একটি বিশাল জয়। ভানুয়াতুর জন্যও একটি বিশাল জয়, যারা এই মামলার নেতৃত্ব দিয়েছে।”

এরআগে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে অনুমান করা হয়েছিল যে ২০০০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২.৮ ট্রিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে, যা প্রতি ঘণ্টায় এক কোটি ৬০ লাখ ডলার।

বিষয়:আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আন্তর্জাতিক বিচার আদালত জলবায়ু পরিবর্তন জাতিসংঘ

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…