সারাদেশ জুড়ে আর কয়েক দিন পরে পালিত হবে মুসলিম সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বড় উৎসব ঈদুল আজহা। ঈদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে দেখা গেছে রাজধানীর মার্কেটগুলোতে হাঁড়ি পাতিলের দোকানে ক্রেতাদের আনাগোনা। ৬ পিস আর ৮ পিসের সেটগুলো বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানান বিক্রেতারা।
বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) রাজধানীর নিউমার্কেটে বেশ কিছু হাঁড়ি-পাতিলের দোকানগুলো ঘুরে দেখা গেছে সিলভার এবং অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি পাতিল কিনতে ক্রেতাদের চাহিদা বেশি।

ঈদ উপলক্ষে মার্কেটে নতুন পাতিল কিনতে আসা গৃহিনী রেহানা বেগম চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘সামনে ঈদ, বাসায় মেয়ে-মেয়ে জামাইরা এবং আত্মীয়রা সবাই আসেন, তাই অনেক ধরনের রান্নাবান্না করতে হয়। সেজন্য নতুন কিছু পাতিল দেখছি, তারপর যেটা পছন্দ হয় সেটা কিনব।
কী ধরনের হাঁড়ি পাতিল কিনবেন এবং দাম সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মূলত সিলভার আর অ্যালুমিনিয়াম দেখছি। এগুলোর মধ্যে ৬ পিস আর ৮ পিসের সেটগুলো দেখছি। তবে অ্যালুমিনিয়ামগুলো এখন পর্যন্ত বেশি পছন্দ। দাম বেশিও আছে, আবার কম দামেরও পাতিল আছে। সিলভারের পাতিলের তুলনায় অ্যালুমিনিয়ামের পাতিলের দাম বেশি।

নিউমার্কেটের এক হাঁড়ি পাতিল ব্যবসায়ী মোঃ সাত্তার চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, সারাবছরের মধ্যে আমাদের বিক্রি একটু বাড়ে এই কোরবানি ঈদের সময়। কারণ আমাদের অনেক ক্রেতারা এই সময়ে এসে বিভিন্ন ধরন ও ডিজাইনের পাতিল কিনে নিয়ে যায়। এবার অবশ্য সবার আকর্ষণ বেশি সিলভার এবং অ্যালুমিনিয়ামের পাতিলগুলোর দিকে। গত এক সপ্তাহে আমি প্রায় ৫২টি অ্যালুমিনিয়ামের পাতিলের সেট বিক্রি করেছি, যার মূল্য আনুমানিক ৩ লাখ টাকার কাছাকাছি।
ননস্টিক হাঁড়ি-পাতিল ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, এখন আমাদের ননস্টিকি পাতিলগুলোর বেচাকেনা খুব একটা ভালো না। কারণ এখন টিভিতে এবং অনলাইনে ডাক্তাররা বলেন, ননস্টিকের পাতিলে রান্না করা ভালো না, এতে নাকি অনেক ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ে। এইসবের কারণে এখন আমাদের বেচাকেনাটা কমে গেছে।

হাঁড়ি পাতিলের সাইজ ও মান ভেদে একটির দাম ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ১২০০ টাকা। এছাড়া ৩টি ও ৬টির সেটের দাম ১০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে সিলভার-অ্যালুমিনিয়ামের পাশাপাশি ঈদের দাওয়াতের সৌন্দর্য বাড়াতে ক্রেতারা ভিড় জমাচ্ছেন কাঁচের ক্রোকারিজ এবং পিতলের প্লেট-বাটির দোকানগুলোতেও।







