আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। হরমুজ প্রণালি শিগগির খুলবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় আজ তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এদিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৪ ডলারের ওপরে উঠেছে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, আজ (১০ আগস্ট) সোমবার বাজার খোলার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৯১ সেন্ট বা ১ দশমিক ০৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৪ দশমিক ৪৬ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৬১ সেন্ট বা দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়ে ৭৮ দশমিক ৭৯ ডলারে ওঠে।
এর আগে গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই দুই ধরনের তেলের দামই ৭ শতাংশের বেশি কমেছিল। তখন ইরান ও ওমানের মধ্যে সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হতে পারে বলে বাজারে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো।
ফলে এই জলপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে কি না, তার ওপর আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের বড় একটি অংশ নির্ভর করছে। রোববার ইরান জানিয়েছে, নতুন নৌপথের সীমা নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তেহরান স্পষ্ট করেছে, যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। এসব শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়ে অগ্রগতি হবে না।
ইরানের দাবির মধ্যে সাম্প্রতিক ব্যাপক হামলার জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও রয়েছে। ফলে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হলেও বাস্তবে হরমুজ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কবে স্বাভাবিক হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারারের মতে, আলোচনা বারবার এগিয়ে যাওয়া ও থেমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা এখন সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। হরমুজ দিয়ে ট্যাংকার চলাচলের নিশ্চিত খবর বা আনুষ্ঠানিক চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত বাজার থেকে ঝুঁকির প্রিমিয়াম পুরোপুরি কমবে না বলেও মনে করছেন তিনি।
এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে কোনো আলোচনা চলছে না। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, জুনে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্র লঙ্ঘন করা বন্ধ না করা পর্যন্ত তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু করবে না। এর মধ্যেই সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার খবর সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। ইরানের ঘনিষ্ঠ হুতিরা জানিয়েছে, তারা সৌদি আরামকোর জাজান শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামো ঘিরে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অঞ্চলটির সামরিক উত্তেজনাও কমেনি। সম্প্রতি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষাচুক্তি করেছে। অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি এডনক জানিয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় তাদের ১৫টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।








