দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে হাঁটুর চোটের সঙ্গে যুদ্ধ করে চলা বেন স্টোকস আর নিয়মিত বোলিং করেন না। ব্যাটার হিসেবেই ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করছেন ৩২ বর্ষী তারকা। চোট সারাতে এবার তাকে ছুরি-কাঁচির নিচে যেতে হচ্ছে। বিশ্বকাপ শেষে অস্ত্রোপচার করাবেন।
আগামী বছরের ২৫ জানুয়ারি ভারতে পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে ইংল্যান্ড। স্টোকস আশা করছেন, সিরিজের আগে সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরতে পারবেন।
গত ১ জুলাই লর্ডসে অ্যাশেজে দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিন থেকে কোনো ফরম্যাটে বল করেননি থ্রি-লায়ন্সদের লাল-বলের অধিনায়ক। ব্যাটার হিসেবে খেলে গেলেও চোট রেহাই দিচ্ছে না।
আহমেদাবাদে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শনিবারের ম্যাচের আগে শারীরিক অবস্থা নিয়ে মুখ খুলেছেন স্টোকস। বলেছেন, ‘ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের জন্য আশা করি সুস্থ থাকব। বিশ্বকাপের পর আমার অস্ত্রোপচার হচ্ছে। কবে করানো হবে সে সিদ্ধান্ত নিতে অনেক সময় নেয়া হয়েছে। জানুয়ারির শেষদিকে ভারতে টেস্ট সিরিজের আগে আমার সুস্থ হওয়া উচিৎ।’
অস্ত্রোপচারের পর কতদিন মাঠের বাইরে থাকতে হবে সে ব্যাপারে ইংলিশদের টেস্ট অধিনায়ক বিস্তারিত জানাননি। তাকে ৫-৭ সপ্তাহের জন্য ক্রিকেটে দেখা নাও যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে টেস্ট সিরিজে খেলতে পারবেন না। লন্ডনে হাঁটুর সার্জন ডা. অ্যান্ডি উইলিয়ামস স্টোকসের অস্ত্রোপচার করবেন।
২০২৪ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ও আইপিএলে খেলার পরিকল্পনা আছে কিনা, এমন প্রশ্নে স্টোকস বলেছেন, ‘দেখুন, আমাদের এখানে বিশ্বকাপে তিনটি ম্যাচ বাকি আছে। তারপর ভারতের বিপক্ষে একটা লম্বা সিরিজ। এই মুহূর্তে সব চিন্তা সেখানেই সীমাবদ্ধ আছে।’
স্টোকস জানান, বিশ্বকাপ চলাকালীন ব্যায়াম করার সময় হাঁপানিতে ভুগছিলেন। আউটফিল্ডে শাটল রানের পরে বেঙ্গালুরুতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের আগে বাতাসের মানের পরিবর্তনের কারণে এমন হয়েছিল।
স্টোকসের ভাষ্য, ‘ভারতের একটি নতুন শহরে গেলে সেখানে বাতাসের মান কিছুটা আলাদা। এটা হাঁপানির একটা কারণ হতে পারে।’
অস্ত্রোপচারের আগে অবশ্য স্টোকস বিশ্বকাপ থেকে তাড়াতাড়ি বিদায়ের পরিকল্পনা করছেন না। টুর্নামেন্টে বাজে পারফরম্যান্স নিয়ে বিশ্বকাপজয়ী তারকার ব্যাখ্যা, ‘আমাদের একটা বিপর্যয়কর বিশ্বকাপ চলছে। এ কথায় চিনি ছিটিয়ে দেয়ার মানে নেই, কারণ এটাই তিতা সত্য। সমস্যা হল, আমরা পঙ্গু হয়ে গেছি। আমরা আগে যেভাবে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলায় সফল হয়েছি, এবার তা পারিনি।’








