বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচের দায়িত্বে বিশ্বকাপের পর আর থাকছেন না অ্যালান ডোনাল্ড। চুক্তির মেয়াদ একবছর বাড়াতে সম্মত হলেও পরিবারকে সময় দিতে টাইগারদের দায়িত্ব আর চালিয়ে যেতে চান না। তবে বাংলাদেশের পেসারদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার কথাও গণমাধ্যমে বলেছেন।
৫৭ বর্ষী ডোনাল্ড ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচের দায়িত্বে আসেন। তিনি পেসারদের মান উন্নয়নে ভূমিকা রেখে প্রশংসিত হন। টিম টাইগার্স এখন নিয়মিত সব ফরম্যাটে তিনজন পেসার নিয়ে একাদশ সাজানোর আত্মবিশ্বাস পেয়েছে। পাইপলাইনও শক্তিশালী হয়েছে ইবাদত-খালেদদের।
তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম এবং হাসান মাহমুদ পেস আক্রমণ সামনে থেকে সামলাচ্ছেন। ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে না থাকা ইবাদত হোসেন লাল-সাদা বলের ক্রিকেটে জাত চিনিয়েছেন। মোস্তাফিজুর রহমান ফর্মে ফিরেছেন, তানজিম হাসান সাকিবও ভালো করছেন।
চলে যাওয়ার আগে সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড বলেছেন, ‘বিশ্বকাপের সময় আমিই প্রথম ব্যক্তি হিসেবে মৌখিকভাবে চুক্তির প্রস্তাব গ্রহণ করেছিলাম। চুক্তিতে সই করিনি। তবে চুক্তির মেয়াদ একবছর বাড়ানোর জন্য ঢাকায় ফিরতে প্রস্তুত ছিলাম। কীভাবে আমরা এই ফাস্ট-বোলিং গ্রুপটিকে আরও সম্প্রসারিত করতে পারি, তা দেখতে রোমাঞ্চিত ছিলাম।’
‘আমার তাৎক্ষণিক ভাবনায়, ১২ মাস দীর্ঘ সময়ের মতো ও সময়সূচি খুব ব্যস্ত মনে হচ্ছে। পরিবার নিয়ে ভাবতে শুরু করলাম। দুবছর বয়সী নাতিকে আমি খুব মিস করি।’
টাইগার পেসারদের উন্নতিতে আনন্দের কথাই জানিয়েছেন প্রোটিয়াদের সাবেক পেসার। বিদায়ের আগে সবার মঙ্গল কামনা করে আবেগ, অনুভূতি ও মনোভাবের কথা স্পষ্ট করেছেন।
‘এই ফাস্ট বোলিং গ্রুপটি বেশ জনপ্রিয় হয়েছে, তাতে আমি অভিভূত। আমার জন্য সমর্থন পাওয়াটা মন ছুঁয়ে যাওয়ার মতো ছিল। বাংলাদেশের মঙ্গল কামনা করছি। আগামী মাস ও বছরগুলোতে তাদের অগ্রগতি অনুসরণ করব, তারা কীভাবে যেতে থাকে, সেটা দেখবো। আমি এই ফাস্ট বোলিং গ্রুপের সবার ভালো বন্ধু হয়েছি। শুধু তরুণদেরই নয়, যারা ছিটকে গেছে তাদেরও। তারা যেভাবে সব ফরম্যাটে উন্নতি করেছে, তাতে আমি সত্যিই আশ্চর্য হয়েছি। গর্জে উঠতে পারার মতো মানসিকতা গ্রহণ করেছে।’
‘সবসময় কাজগুলোকে মৌলিক এবং সহজ রেখেছি। কফি পান, দুপুরের খাবার খাওয়া, কোন মানসিকতার ভেতর গিয়েছে সেগুলো সাপ্তাহিকভাবে দেখাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সভায় সংক্ষিপ্ত আকারে কথা হতো। নিজেদের লক্ষ্য এবং শিক্ষণীয় যা ছিল, তা আমরা এগিয়ে নিয়েছি।’
‘সত্যিই তাদের জন্য গর্বিত। এখন থেকে যারাই তাদের যত্ন নিক না কেনো, আমি জানি যে তাদের কাজ করার জন্য একটি ভালো প্ল্যাটফর্মসহ সুন্দর স্থানে রেখে যাচ্ছি। এখন মূলত বাবা, স্বামী ও দাদা হিসেবে আমার বাড়িতে ফিরে যাওয়ায় সময়।’
নিজ দেশ সাউথ আফ্রিকায় ফিরে গেলেও বাংলাদেশের ফাস্ট বোলারদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করছেন না ডোনাল্ড। সাদাবিদ্যুৎ খ্যাত সাবেক পেসার হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সবার সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করছেন।
‘আপনি যে মুহূর্তে একটি সংস্থা বা একটি দল ছেড়ে যান, নিজেকে সেই সংশ্লিষ্ট হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে বিচ্ছিন্ন করেন। আমি খেলোয়াড়দের বলেছি সেই গ্রুপটি চালু রাখব। যখনই খেলোয়াড়রা মনে করবে তারা চ্যাট করতে চায়, আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করতে পারবে। আমরা একটি গ্রুপ চ্যাট করতে পারি। সেজন্য বলেছিলাম, তাদের সাথে যোগাযোগ রাখতে চাই। এখানে শুধু হালকা আলোচনাই হোক বা ক্রিকেট নিয়ে চ্যাট হোক।’








