দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে স্বপ্নের মতো শুরু করেছে বাংলাদেশ। স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে দুই’শ রানের আগে গুটিতে দিতে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন তিন পেসার হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন। তবে সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বল ছিলেন ডানহাতি হাসান, নিয়েছেন ছয় উইকেট। সব উইকেট স্পেশাল হলেও সবচেয়ে দামি উইকেটটি ছিল স্টিভেন স্মিথের বলে মন্তব্য হাসানের।
৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেছেন হাসান মাহমুদ। তাকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন। পেসাররাই নিয়েছেন অজিদের দশ উইকেট। এক ইনিংসে বাংলাদেশি পেসারদের ১০ উইকেট নেয়ার দ্বিতীয় কীর্তি এটি। এর আগে ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে এক ইনিংসে ১০ উইকেট নিয়েছিলেন পেসাররা। সেই ইনিংসে ৫ উইকেট পেয়েছিলেন হাসান।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসে হাসান বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আসলে এরকম একটা চ্যালেঞ্জিং মুহূর্তে বিশ্বের ওয়ান অব দ্য বেস্ট টিমের সাথে বোলিং করাটা খুবই চ্যালেঞ্জিং। আমি মনে করি যে, আমার শেষ উইকেটটা নিতে প্রচুর অনুশীলন করতে হয়েছে। প্রস্তুতি খুবই ভালো ছিল। অনেকদিন পেয়েছিলাম অনুশীলন করার এবং আমার মনে হয় বোলাররা খুবই ভালো প্র্যাকটিস করেছে এবং ম্যাচে আপনি তা দেখতে পারতেছেন। সবমিলে খুবই ভালো, বিশেষ করে তাসকিন এবং এবাদত, তারা খুবই ভালো বোলিং করেছে।’
কোন উইকেটটা স্পেশাল ছিল এমন প্রশ্নে এ পেসারের উত্তর, ‘আমার কাছে সবগুলো উইকেটই স্পেশাল, কারণ পাঁচটা না হলে তো আর পাঁচ উইকেট হয় না। সত্যি বলতে গেলে, আমার দলের যে এনার্জি ছিল সকাল থেকে এবং সবাই মিলে যে মাঠে নিজেদের সেরাটা ঢেলে দিয়েছে। আমি অবশ্যই সতীর্থদের ক্রেডিট দিতে চাই এটাতে। অধিনায়ক যেভাবে সমর্থন করেছে মাঠের মধ্যে, অবশ্যই আলহামদুলিল্লাহ আমরা ভালো শেষ করতে পেরেছি।’
‘অবশ্যই স্টিভ স্মিথের উইকেটটা বলব স্পেশাল ছিল। ও ধারণা করতে পারতেছিল না আমি আসলে কোথায়া বল করব। আমার ইন্সটিংক্ট কাজ করতেছিল যে ও কিছু একটা করতে যাবে, তো আমি বাউন্সার মারছিলাম, তো পরে মিস করছে।’
ডারউইনে সোনালী দিন কাঁটিয়েছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়াকে ৫৩ ওভারে ১৯৮ রানে থামিয়ে দিয়ে ব্যাট হাতেও ভালো কাটিয়েটে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ২৪ ওভারে ১ উইকেটে ৯৬ রান করে ১০২ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় দিন শুরু করবেন তানজিদ তামিম এবং মুমিনুল হক।










