কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া ও সাউথ আফ্রিকা। ওয়ানডে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল নিয়ে যতটা না কথা চলছে, তার চেয়ে বেশি আলোচনায় বৃষ্টি শঙ্কার বিষয়টি রয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে ম্যাচ গড়াবে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস আপাতত সুখবর দিচ্ছে না। ম্যাচ চলাকালীন কলকাতায় শতকরা ৭০ ভাগ বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টা থেকে বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় রিজার্ভ ডে-তে গড়াতে পারে ম্যাচ। বাতাসের আদ্রতা থাকতে পারে শতকরা ৭৬ শতাংশ। বাতাসের গতিবেগ হবে ঘণ্টায় ১০-১৫ কিলোমিটার।
এমনকি শুক্রবার রিজার্ভ ডেতে খেলা গড়ালে, বৃষ্টির শঙ্কা আছে সেদিনেও। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, এদিন বৃষ্টির সম্ভাবনা শতকরা ৬০ শতাংশ। সারাদিন হতে পারে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি।
আম্পায়াররা নির্ধারিত দিনে ম্যাচ সম্পূর্ণ করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন। নির্ধারিত ৫০ ওভারের খেলা সম্ভব না হলে কমিয়ে অন্তত ২০ ওভার হবে। সেটিও সম্ভব না হলে রিজার্ভ ডেতে ম্যাচ গড়াবে। ২০১৯ বিশ্বকাপে ওল্ড ট্রাফোর্ডে ভারত এবং নিউজিল্যান্ডের সেমি রিজার্ভ ডেতে গড়িয়েছিল।
রিজার্ভ ডেতে খেলা হলে কোন নিয়মে পরিচালিত হবে, সেটি আইসিসি প্লেইং কন্ডিশন জানিয়ে রেখেছে। মূলত দুটি পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সাজানো হয়েছে প্লেইং কন্ডিশন।
উদাহরণ-১: ৫০ ওভারের ম্যাচ শুরুর পর ১৯ ওভারে বৃষ্টির বাধায় থেমে গেলে, এরপর ৪৬ ওভারে কমিয়ে আনা হবে। পুনরায় বল মাঠে গড়ানোর আগে যদি বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত দিনের খেলা পরিত্যক্ত হয়, তাহলে রিজার্ভ ডেতে আর ওভার কমানোর নিয়মটি প্রযোজ্য হবে না। ৫০ ওভারের ম্যাচই হবে। রিজার্ভ ডেতেও বৃষ্টি হলে ওভার আরও কমতে পারে।
উদাহরণ-২: ৫০ ওভারের ম্যাচ শুরুর পর ১৯ ওভারে বৃষ্টির বাধায় থেমে গেলে, এরপর ৪৬ ওভারে কমিয়ে আনা হবে। খেলা আবার শুরুর পর এক ওভার মাঠে গড়ালে, এরপর বৃষ্টিতে দিনের জন্য পরিত্যক্ত হলে রিজার্ভ ডেতে ৪৬ ওভারের ম্যাচ হবে। তবে রিজার্ভ ডেতেও বৃষ্টি হলে ওভার আরও কমতে পারে।
নির্ধারিত ও রিজার্ভ ডে মিলিয়ে ম্যাচে যদি দুদলের ব্যাটিং ইনিংস ন্যূনতম ২০ ওভার না হয়, তাহলে ম্যাচ পরিত্যক্ত হবে। সেক্ষেত্রে লিগপর্বে পয়েন্ট টেবিলে এগিয়ে থাকা দলটি ফাইনালে উঠবে।
নয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ও সাউথ আফ্রিকার পয়েন্ট সমান ১৪। রানরেটে এগিয়ে থাকায় টেবিলের দুই নম্বরে অবস্থান করা প্রোটিয়ারা সেক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো খেলবে ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনাল।
ইডেন গার্ডেন্স স্টেডিয়ামের পিচ হবে ধীরগতির। বল নিচু হয়ে আসবে এবং স্পিনারদের অনেক সাহায্য করবে। ব্যাটারদের আক্রমণাত্মক হওয়ার জন্য সহায়ক তেমন একটা নাও হতে পারে। বৃষ্টির প্রভাবে কিছু সময়ের জন্য পিচ পেসাররা পেতে পারেন বাড়তি সহায়তা।








